ফাইল ছবি
২০১৫ সালের পর বিগত এক দশকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানো হয়নি। ফলে বর্তমান বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বিভাগ বাড়তি অর্থের সংস্থান নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
অর্থ বিভাগের পরিকল্পনায় দুটি উৎসকে বিশেষভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রথমটি হলো চাকরিজীবীদের বাড়িভাড়া, এবং দ্বিতীয়টি তাদের আয়কর। বর্তমানে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা। নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ১৬ হাজার টাকার বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সর্বনিম্ন বেতনপ্রাপ্তরাও আয়করযোগ্য হবেন। অর্থ বিভাগ মনে করছে, এভাবে সরকার বড় অঙ্কের আয়কর আদায় করতে পারবে, যা নতুন বেতন কাঠামোর অতিরিক্ত অর্থ সংস্থানে সহায়ক হবে।
অন্যদিকে, সরকারি আবাসনে বসবাসরত চাকরিজীবীদের বাড়িভাড়া বর্ধিত হওয়ায় ওই উৎস থেকেও রাজস্ব বৃদ্ধি হবে। অর্থ বিভাগ মনে করছে, বেতন-ভাতা বাড়ানোর ফলে শুধু ব্যয়ই বাড়বে না, বরং রাজস্ব আদায়ের পরিধিও সম্প্রসারণ পাবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে।
অর্থ বিভাগের মতামতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের অগ্রগতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দক্ষ ও মেধাবী মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা জরুরি। এজন্য সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক ও সময়োপযোগী বেতন কাঠামো প্রবর্তন অপরিহার্য, যা জনসেবা কার্যক্রমে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ন্যায়সঙ্গত ও কার্যকরী নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশনের কাজ এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যেই অনলাইনে চারটি প্রশ্নমালায় প্রাপ্ত সর্বসাধারণের মতামত ও সুপারিশ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। কমিশন আশা করছে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই সুপারিশ সরকারি পর্যায়ে পেশ করা সম্ভব হবে।
জাতীয় পে-কমিশনের সভাপতি সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান জানিয়েছেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেই সর্বোচ্চ বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব থাকবে। সম্প্রতি তিনি অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা জানিয়েছেন।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের মধ্যেই গ্যাজেটের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। আর এটি বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, আগামী বছরের মার্চ বা এপ্রিলে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করতে হলে চলতি অর্থবছরের বাজেটেই তার জন্য অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে। বাজেট সংশোধন শুরু হবে ডিসেম্বরে, সেখানে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এসএইচ


























-20260722160634.jpg)







-20260725114857.jpg)




