• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

সাত কলেজে প্রশ্ন ফাঁস: তদন্ত কমিটির প্রধান বললেন, ‘আপনাকে উত্তর দিতে বাধ্য নই’


ঢাকা কলেজ প্রতিবেদক জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ১১:০৫ এএম
সাত কলেজে প্রশ্ন ফাঁস: তদন্ত কমিটির প্রধান বললেন, ‘আপনাকে উত্তর দিতে বাধ্য নই’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ফাইনাল পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো অগ্রগতি জানা যায়নি। কমিটি গঠনের এক সপ্তাহ পার হলেও এখন পর্যন্ত তদন্তের অগ্রগতি প্রকাশ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান সাংবাদিকের সঙ্গে কড়া মন্তব্য করেন।

গত ২০ জানুয়ারি রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ফাইনাল পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের একাধিক তথ্য ও প্রমাণ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হয়। তবে সংবাদ প্রকাশের পরও ২২ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাত কলেজে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের ওপরই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা নেয়।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সাত কলেজ প্রশাসন একে অপরের ওপর দায় চাপায়। একই দিন সাত কলেজ প্রশাসন তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু কমিটি গঠনের এক সপ্তাহ পার হলেও তদন্তের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি এখনো দেখা যায়নি। 

কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নায়লা আক্তার। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, একই কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ দিল্লুর রহমান এবং ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক কোহিনুর আক্তার।

ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর অনিয়ম প্রকাশ্যে আসার পরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত সাত কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তদন্ত কমিটি কেবল গঠনেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তারা আদৌ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে কি না? তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।

তিনি আরও বলেন, এত বড় ও স্পর্শকাতর একটি ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ বা কঠোর অবস্থান দেখা যাচ্ছে না। বরং প্রশাসনের এই উদাসীনতার কারণেই প্রশ্নফাঁসের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করেন তিনি।

আমরা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি প্রশ্নফাঁসের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকলকে দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। 

তদন্ত কমিটির প্রধান ঢাকা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নায়লা আক্তার বলেন, আমাদের তদন্ত সবেমাত্র শুরু হয়েছে। শুরু হওয়া অবস্থায় আপনাকে কোন তথ্য দেব না। আমাদের কাজ কতদূর আগিয়েছে সেটা আপনাকে বলবো না। এটা গোপনীয় বিষয়। এটা একান্তই আমাদের নিজস্ব বিষয়।

তদন্ত শেষ হতে কতদিন লাগতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা তো বলা যায় না, তথ্যের প্রাপ্যতার উপর ভিত্তি করে বলতে হবে। যদি সঠিক তথ্য না পাই তাহলে তদন্ত লম্বা হবে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, আপনি শুধু আমাকে প্রশ্ন করে যাচ্ছেন, আমি তো আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য না। যদি না কোনো তথ্য দিবেন এরকম কোনো ইনশিওর না করেন, আমি তো আপনাকে তথ্য দেবো না। আপনার কাছে তথ্য চাই।

এবিষয়ে সাত কলেজের সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, তদন্ত কমিটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে এখনো আমাকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। 

তদন্ত কত দিনের মধ্যে শেষ হবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমিটি এখনো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনে সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করলে তা বিবেচনা করে অনুমতি প্রদান করা হবে।

উল্লেখ্য, সরকারি সাত কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স থেকে মাস্টার্স পর্যায় পর্যন্ত পরীক্ষার প্রশ্ন অর্থের বিনিময়ে ফাঁসের একাধিক তথ্য-প্রমাণ সামনে আসে। তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে আসছে। 

এই চক্র পরীক্ষার তিন থেকে চার দিন আগে অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রেখে  কলেজগুলোর অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মাঝে অর্থের বিনিময়ে প্রশ্ন সরবরাহ করে আসছে। চক্রটি দীর্ঘ সময় ধরে প্রশ্ন ফাঁস করে আসলেও এতদিন বিষয়টি প্রকাশ্যে আসেনি। সম্প্রতি প্রশ্ন ফাঁসের নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ সামনে আসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের চিহ্নিত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান শিক্ষার্থরা।

এম

Wordbridge School
Link copied!