• ঢাকা
  • রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনে নতুন নিয়ম


নিউজ ডেস্ক অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১১:১৮ এএম
অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনে নতুন নিয়ম

অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করে একের পর এক স্টুডেন্ট ভিসা নেওয়ার সুযোগ আরও সীমিত করেছে দেশটির সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় থাকা স্টুডেন্ট ভিসাধারীরা নতুন করে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে চাইলে তাদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা দেখাতে হবে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে না পারলে অস্ট্রেলিয়া ছেড়ে বিদেশ থেকে আবেদন করতে হবে।

নতুন নিয়ম ২ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যারা অস্ট্রেলিয়ার ভেতর থেকে নতুন স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে পারবেন না, তাদের দেশ ছাড়ার পর আবেদন করতে হবে। এমনকি ভিসা মঞ্জুর হওয়ার সময়ও আবেদনকারীকে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থাকতে হবে। এ ধরনের আবেদনের জন্য কোনো ব্রিজিং ভিসাও দেওয়া হবে না।

তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ায় থেকেই নতুন স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করা যাবে। অসুস্থতা, কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে চলমান কোর্স শেষ করতে বাড়তি সময় প্রয়োজন হলে এ সুযোগ থাকবে।

পিএইচডি শিক্ষার্থী এবং একটি কোর্স শেষ করে উচ্চতর পর্যায়ে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীরাও নির্দিষ্ট শর্তে অস্ট্রেলিয়া থেকেই আবেদন করতে পারবেন। তবে উচ্চতর পর্যায় থেকে নিচের স্তরের ভোকেশনাল কোর্সে গিয়ে নতুন ভিসা নেওয়ার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে।

অন্য অস্থায়ী ভিসাধারীদের জন্যও কড়াকড়ি

ওয়ার্কিং হলিডে, ট্রেনিং ও স্কিলস ইন ডিমান্ডসহ কয়েক ধরনের অস্থায়ী ভিসাধারী এখন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে পারবেন না। তাদের দেশটির বাইরে গিয়ে আবেদন করতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনে বাড়ল সময়সীমা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম চালু হয়েছে। ২ অক্টোবর থেকে স্কুলের বাইরে থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মূল কোর্সে অন্তত ১২ মাস পূর্ণ হওয়ার আগে অন্য প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। আগে এ সময়সীমা ছিল ছয় মাস।

নতুন স্টুডেন্ট ভিসা ট্রান্সফার ব্যবস্থা চালুর আগ পর্যন্ত, অর্থাৎ ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এ অন্তর্বর্তী নিয়ম কার্যকর থাকবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ অবশ্য রাখা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের জন্য আলাদা স্টুডেন্ট ভিসা ট্রান্সফার ব্যবস্থা চালু হতে পারে। তখন নতুন প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শুরুর আগেই নতুন ভিসা নিতে হবে।

পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন

স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় নেওয়ার নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী পরবর্তী সময়ে স্বামী-স্ত্রী বা সন্তানকে নিজের ভিসার সঙ্গে যুক্ত করে নিতে পারবেন না। পরিবারের সদস্যদের আনতে হলে মূল স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করার সময়ই তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

তবে পিএইচডি শিক্ষার্থী, অস্ট্রেলিয়া বা বিদেশি সরকারের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীসহ নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির জন্য ছাড় থাকবে। ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় একসঙ্গে থাকা পরিবারের ক্ষেত্রেও আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও নাগরিকত্ববিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেছেন, স্টুডেন্ট ভিসার মূল উদ্দেশ্য পড়াশোনা। এক ভিসা থেকে অন্য ভিসায় গিয়ে দীর্ঘ সময় অস্ট্রেলিয়ায় থাকার প্রবণতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা ব্যবস্থার মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতেই নতুন নিয়ম করা হয়েছে।

তবে ২ অক্টোবরের আগে জমা দেওয়া স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন আগের নিয়মেই নিষ্পত্তি হবে।

নতুন বিধান কোনো নির্দিষ্ট দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য নয়। ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করে ভিসার ধরন পরিবর্তন, নতুন স্টুডেন্ট ভিসা নেওয়া বা পড়াশোনার স্তর পরিবর্তনের সুযোগ আগের তুলনায় সীমিত হলো।

/এম/

Link copied!