• ঢাকা
  • শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ইতিহাসের ভয়ঙ্কর সব যোদ্ধা জাতি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক অক্টোবর ৬, ২০১৬, ০৫:৪৪ পিএম
ইতিহাসের ভয়ঙ্কর সব যোদ্ধা জাতি

ঢাকা: হিংসা, যুদ্ধ আর নৃশংসতার মধ্য দিয়েই আজকের মানবসভ্যতা। ক্ষমতা আর আধিপত্য বিস্তারের আদিম তাড়না আজও রয়ে গেছে মানুষের মধ্যে। সেই তাড়না থেকেই মানুষ গড়ে তুলেছে সামরিক বাহিনী। পৃথিবীতে যুগ যুগ ধরে ছিল কিছু যোদ্ধা জাতি। যারা যুদ্ধ করতো সম্মানের সঙ্গে। যুদ্ধ করতো সম্মানের জন্য। তেমনি ১০ যোদ্ধা জাতি ইতিহাসখ্যাত।

আর্যটেস: বিশ্ববিখ্যাত আর্যটেস সেনারা যুদ্ধের ময়দানে ছিল অত্যন্ত নির্মম। সাধারণত ঈগল বা জাগুয়ারের মতো পোশাক পরতো। তীর-ধনুক-বর্শার মতো আদিম সব অস্ত্র ব্যবহারে ছিল খুবই পারদর্শী। ‘Shorn Ones’ (Cuachicqueh) ছিলেন তাদের সর্বশ্রেষ্ঠ যোদ্ধা। তারা অনেক আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত স্প্যানিশ বাহিনীর কাছে ঘটনাক্রমে পরাজিত হয়েছিল। কিন্তু বীর যোদ্ধাদের জন্যই তাদের সাম্রাজ্য বহুদিন টিকে ছিল।

নাইট: এরা অশ্বারোহী বীর যোদ্ধা। সবচেয়ে ধনি, ওয়েলট্রেইন্ড ও সবচেয়ে সম্মানিত যোদ্ধা। সারা শরীর বর্ম দিয়ে মোড়া থাকতো। নিজেদের মিশন সম্পন্ন করার জন্য তাদের ছিল ঘোড়া, ফুল বডি আর্মার ও অস্ত্র-শস্ত্র। ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন ছিল তাদের হত্যা করা। নাইটদের সারা জীবন কাটতো প্রশিক্ষণ নিতে নিতে। নাইট শুধু তারাই হতো, যারা বীরের মতো যুদ্ধ করে টিকে থাকতে পারতো। যারা বালক বয়স থেকেই নাইট হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ নিতো। দীর্ঘ সময়ের প্রশিক্ষণের পর পূর্ণ বয়সে তারা এক একজন নাইট হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করতো। এরা রাজার আদেশে স্পাই হিসাবেও কাজ করতো। রাজার নিরাপত্তার দিকটা তারাই দেখতো।

রোমান সেনা: রোমান সেনাবাহিনীর ছিল অতুলনীয় নেতৃত্বদানের দৃঢ়তা। তারা বর্ম আর ঢাল আবৃত ভারী পদাতিক বাহিনী। প্রাচীন গ্রীকের অস্ত্রের উন্নত সংস্করণের ফলেই এমনটি করতে পারতো তারা। ঢালের সাথে তলোয়ার ও বর্শায় দক্ষযোদ্ধা ছিল তারা। যুদ্ধের সময় অস্ত্র ও বর্মের বেষ্টনী তৈরি করতো। তারা ছিল শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সশস্ত্র। উন্নত রণ- কৌশলের কারণে রোমান সাম্রাজ্য বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল।

মোঙ্গল যোদ্ধা: মোঙ্গলদের আধিপত্য ছিল ইউরোপ-এশিয়ায়। তারা ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ যোদ্ধা। তাদের সামরিক কমান্ডার ছিলেন চেঙ্গিস খান। তিনি বিশ্বের বৃহত্তম সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। মোঙ্গলরা অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং ঘোড়ার পিঠে চড়ে তিরধনুক ব্যবহারে দক্ষ ছিল। তারা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ এবং ভীতি প্রদর্শনে ছিল বিখ্যাত।

অ্যাপাচি: অ্যাপাচিদের বলা হয় আমেরিকার নিনজা। তারা নিঃশব্দে শত্রুর পিছনে গিয়ে দাঁড়াতে এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই গলা কেটে ফেলতে সক্ষম ছিল। নিজেদের বেশিরভাগ অস্ত্র তৈরিতে তারা আদিম কাঠ এবং হাড় ব্যবহার করতো। তারা ছিল বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ছুরি-যোদ্ধা এবং কুঠার নিক্ষেপে দক্ষ। এরা ছিল আমেরিকার আদিবাসী। তাদের উচ্ছেদ করতে এমনকি সামরিক বাহিনীরও কষ্ট হয়েছিল। তারা গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে খুবই ভালো। তাদের উত্তরাধিকাররা বর্তমানে স্পেশাল ফোর্সকে হ্যান্ড টু হ্যান্ড কমব্যাট শেখায়।

নিনজা: নিনজারা ছিল চুরি-স্যাবটাজের গুরু। বাস্তবে তারা ছিল কৃষক। তারা সামুরাইদের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। কিন্তু তারা ঘটনাক্রমে কাল্পনিক হত্যাকারী (assassins) হয়ে যায়। নিনজাদের অস্ত্র ছিল কানাতা (Kanata)। কানাতা মানে হলো- নিনজা সোর্ড, ব্লো-গান, নিনজা স্টার ও kusarigama (শিকলের এক প্রান্ত নিনজা ধরে থাকে অন্য প্রান্তে একটি চাকু বা কুড়াল বা চাপাতি লাগানো থাকে)। তারা ‘shadow warriors of the night’ নামে পরিচিত। তাদের তড়িৎ গতিতে হত্যা ও গায়েব হয়ে যাওয়ার ক্ষমতাকে ভয় পেত মানুষ। তারা মার্শাল আর্টেও অত্যন্ত দক্ষ ছিল।

সামুরাই: সামুরাইরা ছিল জাপানের নাইট ও কাতানায় খুবই দক্ষ। তারা ভারী অস্ত্র সজ্জিত ও বর্ম দিয়ে আবৃত। তারা তাদের মালিক বা রাজাদের জন্য মরতেও সর্বদা প্রস্তুত থাকতো। তাদের তরবারি এতই ধারালো যে, তার এক কোপে মানুষকে দুই টুকরা করে ফেলা যেত। এত ধারালো অস্ত্র দুনিয়াতে আর নেই। তারা ইয়ামি (yumi চালনায়ও দক্ষ ছিল। তারা ছিল পেশাদার সৈনিক। তাদের সম্মান ছিল লড়াইয়ে জেতা। কোনো সামুরাই লড়াইয়ে হেরে গেলে নিজেই নিজের পেটে সামুরাই তরবারি ঢুকিয়ে দিত। তাদের নিষ্ঠুর ব্যবহারের জন্যই কৃষকরা সামুরাইদের বিপক্ষে চলে যায় এবং নিনজার জন্ম হয়।

ভাইকিং: এরা অতীত ইউরোপের ত্রাস ও সন্ত্রাস। প্রাচীন বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর যোদ্ধা হলো ভাইকিংরা। তারা লুট-পাট চালাতো। সারা ইউরোপ জুড়ে দাপট ছিলো তাদের। তারা ছিল হিংস্র। নিজেদের দৈহিক উচ্চতা অনুযায়ী অস্ত্র ব্যবহার করতো। যে যত বড় দেহের অধিকারী, তার অস্ত্র তত বড়। তারা ছিল নিষ্ঠুর ও বিশালদেহের অধিকারী। ভাইকিংরা কুড়াল, তলোয়ার ও বর্শা ব্যবহার করতো। যুদ্ধই ছিল তাদের ধর্ম। এই জাতির বিশ্বাস ছিল, যখন কেউ মারা যাবে, তখন সে আরেকটি যুদ্ধে যোগ দেবে, যে যুদ্ধ কখনোই শেষ হবে না। তারা শুধু সৈনিকই হতো চাইতো। আর যুদ্ধক্ষেত্র ছিল নিজেদের যোদ্ধা প্রমাণের পথ। তাদের একটি ভালো দিক হলো- অবিশ্বাস্যভাবে তারা ছিল ভালো ব্যবসায়ী।

মামলুক: মামলুকরা ছিলেন ‘স্লেভ’ সৈনিক। এরা পরে ইসলাম ধর্মে রূপান্তরিত হয়। মধ্যযুগে মুসলিম খলিফাদের জন্য যুদ্ধ করতো। সময়ের সাথে সাথে, তারা এতটাই শক্তিশালী সামরিক জাতিতে পরিণত হয় যে, তারা প্রায়ই ক্রুসেডার্সদের পরাস্ত করতো। একাধিকবার কখনো কখনো, তারা নিজেরাই ক্ষমতা গ্রহণ করতো। উদাহরণস্বরূপ, মামলুক সুলতানাত ১২৫০-১৫১৭ সাল পর্যন্ত মিশরের শাসক ছিল। মামলুকরা ইসলামে ধর্মে দিক্ষিত হওয়ার পর ক্যাভালরি সৈন্য হিসেবে প্রশিক্ষণ নেয়। এরা যেমন সাহসী ও উদার ছিলো- তেমনি কৌশলে, অশ্বারোহণে, ধনুবিদ্যায় ও চিকিৎসাশাস্ত্রে খুবই দক্ষ ছিল।

স্পার্টান: স্পার্টান কালচারটাই হলো পুরুষদের যুদ্ধ ও যোদ্ধা হবার প্রশিক্ষণ নেয়া। তারা বলতো, যদি জয়ী হও তবেই ফেরত এসো। তৎকালীন দুনিয়ার সবচেয়ে কঠিন যোদ্ধা তারা। যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত যুদ্ধ করতো। বলা যায় তারা ছিল যুদ্ধবাজ জাতি।

সোনালীনিউজ/এমএন

Link copied!