ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান–এর উত্তেজনা তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পাল্টাপাল্টি জাহাজ জব্দ ও সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
আল জাজিরা–র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শুক্রবার ভোরে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলার ছাড়িয়েছে, যা কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি। এর আগে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছিল এই সূচক।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনায় সেখানে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ইরান দাবি করছে, প্রণালিতে কোন জাহাজ চলাচল করবে তা তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন নৌবাহিনীকে সন্দেহজনক ইরানি নৌযান ধ্বংসের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের কথাও উল্লেখ করেন। এর আগে পেন্টাগন জানায়, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা বিদেশি পণ্যবাহী জাহাজ আটক করেছে। যদিও এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে।
সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড জানিয়েছে, প্রতিদিনের তুলনায় প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নাটকীয়ভাবে কমে গেছে, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব শুধু তেলের দামে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্য প্রবাহেও এর প্রতিফলন দেখা যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
এসএইচ







































