ফাইল ছবি
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি)। সবকিছু সঠিকভাবে এগোলে জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই এই বিসিএসের চূড়ান্ত সুপারিশ প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পিএসসি সূত্রে প্রথম আলোকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভা পর্ব চলমান রয়েছে এবং একই সাথে ফলাফল যত দ্রুত সম্ভব প্রকাশের জন্য প্রশাসনিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।
প্রিলিমিনারি থেকে মৌখিক বিসিএসের তিন ধাপ
একজন প্রার্থীকে বিসিএস ক্যাডারে যোগদানের পথে তিনটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ স্তর পার করতে হয়। ৪৬তম বিসিএসের প্রথম স্তর বা প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৯৮৬ জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় উপস্থিত হয়েছিলেন ২ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬১ জন। প্রিলিমিনারি বাছাইয়ের পুনর্মূল্যায়নের ফলাফল অনুসারে মোট ২১ হাজার ৩৯৭ জন প্রার্থী দ্বিতীয় স্তর অর্থাৎ লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন।
২০২৫ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয় ওই বছরের ২৭ নভেম্বর। লিখিত পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে প্রযুক্তিগত ভুল সংশোধনের পর অবশেষে ৪ হাজার ৫০ জন প্রার্থী তৃতীয় ও শেষ ধাপ অর্থাৎ মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন। এখন এই ৪ হাজার ৫০ জন প্রার্থীর ভাইভা পর্ব চলছে। এই পর্বে সফল প্রার্থীদের মধ্য থেকে মেধাক্রম এবং ক্যাডার পছন্দের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে ৩ হাজার ১৪০টি পদের
জন্য নিয়োগের সুপারিশ করা হবে।
পদসংখ্যা
এই বিসিএসের মাধ্যমে মোট ৩ হাজার ১৪০টি পদে ক্যাডার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল পিএসসি। এর মধ্যে সাধারণত সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হয় স্বাস্থ্য ক্যাডারে; সহকারী সার্জন পদে ১ হাজার ৬৮২ জন এবং সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে ১৬ জন নিয়োগ পাবেন। এরপর শিক্ষা ক্যাডারে ৯২০ জন, প্রশাসন ক্যাডারে ২৭৪ জন, পুলিশ ক্যাডারে ৮০ জন এবং পররাষ্ট্র ক্যাডারে ১০ জন নিয়োগের সুযোগ পাবেন। এছাড়া বিভিন্ন কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারের অন্যান্য পদেও সুপারিশ করা হবে।
পিএসসির মতে, এবার লিখিত খাতা মূল্যায়নে আধুনিক ‘সার্কুলার ইভাল্যুশন সিস্টেম’ ব্যবহার করায় ফল প্রকাশে অসাধারণ গতি এসেছে। যেখানে ৪৪তম বিসিএসের লিখিত ফল প্রকাশে ১৫ মাস সময় লেগেছিল, সেখানে ৪৬তম বিসিএসের লিখিত ফল মাত্র তিন মাসেরও কম সময়ে প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বিসিএস নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিলম্ব কমিয়ে আনার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ৪৬তম বিসিএসের লিখিত ফলাফল আমরা রেকর্ড সময়ে প্রকাশ করেছি। এখন মৌখিক পরীক্ষা চলমান। আমাদের লক্ষ্য হলো চলতি জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা, যাতে হাজার হাজার যোগ্য প্রার্থী দ্রুততম সময়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারেন।’
বর্তমান কমিশন এই দ্রুততা অব্যাহত রেখে জানুয়ারির শেষের দিকে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
এসবিআর







































