ছবি: সংগৃহীত
সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমানের পাশে এক নারীর উপস্থিতির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবিটি প্রকাশ হওয়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সেই ছবি নিয়ে মুখ খুললেন সেই ছবিতে থাকান নারী মনিরা শারমিন। তিনি নিজের ফেসবুকে লিখেন, গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতির একটি নগ্ন ও নির্মম বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে জোটের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলাম। সেখানে চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং সেক্রেটারি হিসেবে আমি। অন্যান্য দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরাও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি লিখেন, সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে আসিফ মাহমুদ তার জন্য নির্ধারিত আসন ছেড়ে দিয়ে আমাকে বসতে বলেন, কারণ অতিরিক্ত চেয়ার ছিল না। কেউ একজন পরে একটি চেয়ার এনে দিলে তিনি দূরে বসেন। তখনই খেয়াল করি, পুরো হলরুমটিই নারীবিহীন। সেখানে উপস্থিত সবাই ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী। আমিও একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে সেখানে ছিলাম।
মনিরা শারমিন বলেন, মনে মনে ভাবছিলাম, এই মঞ্চে একজন নারী হিসেবে আমার উপস্থিতি হয়তো অনেক নারীকে রাজনীতিতে আসার সাহস দেবে। রাজনীতি মানে রাজনীতি। এখানে যোগ্যতাই মুখ্য। লিঙ্গ পরিচয়ের কারণে কাউকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। আমি সেখানে বাংলাদেশের ৫১ শতাংশ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেছি।
তিনি আরও লিখেন, ঐক্যবদ্ধ জোট কোনো আদর্শিক জোট নয় এবং এনসিপিও আদর্শিক রাজনীতি করে না। ফলে এনসিপির পক্ষ থেকে একজন নারী সদস্য সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা অস্বাভাবিক হওয়ার কথা নয়। কিন্তু প্রকৃত চিত্রটি দেখলাম সংবাদ সম্মেলন শেষে বাইরে এসে। আমাকে লক্ষ্য করে এমন কোনো গালিগালাজ নেই, যা ব্যবহার করা হয়নি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে আমি ভয় পাই না। আজ যে অবস্থানে আমি দাঁড়িয়ে আছি, তা আমার নিজের যোগ্যতায় অর্জিত। গালিগালাজে দমে যাওয়ার মানুষ আমি নই।
নারীদের রাজনীতিতে আসতেই হবে। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই আসতে হবে। ফতোয়া জারি করে নারীদের পিছিয়ে রাখার সুযোগ আর নেই। যারা দেশের অর্ধেকের বেশি জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে রাজনীতি করতে চায় এবং রাষ্ট্রক্ষমতার স্বপ্ন দেখে, তাদের সেই কল্পনা করুণার যোগ্য।
আমি কথা বলব, বলতে থাকব। জায়গা ছাড়ব না। হয়তো এই যাত্রায় আমি একা। ইতিহাসই বিচার করবে আমি সঠিক পথে ছিলাম কি না।
এসএইচ







































