• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৭ মে, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

মূল্যস্ফীতির নতুন চাপ

শহরের চেয়ে গ্রামের মানুষের কষ্ট বেশি


নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৭, ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
শহরের চেয়ে গ্রামের মানুষের কষ্ট বেশি

ফাইল ছবি

দেশের সাধারণ মানুষের যাপিত জীবনে স্বস্তি ফেরার লক্ষণ নেই। সরকারি হিসাবেই গত মাসে জীবনযাত্রার ব্যয় বা মূল্যস্ফীতি ফের ৯ শতাংশের ঘর ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এর আগের মাস মার্চে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের ১০ মাসের মধ্যে আট মাসই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে থাকলেও এপ্রিলের এই উল্লম্ফন নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিবিএসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত মাসে খাদ্যপণ্যের তুলনায় খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বেশি বেড়েছে। খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশে, যা মার্চে ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, এপ্রিলে শহর এলাকার তুলনায় গ্রাম অঞ্চলের মানুষের ওপর দাম বাড়ার চাপ ছিল বেশি। শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ হলেও গ্রামে তা ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। বিশেষ করে গ্রামের মানুষের খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৮১ শতাংশে ঠেকেছে, যা গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য বড় সংকট তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পরিবহন, উৎপাদন ও সেচ খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে। এছাড়া সরবরাহ ব্যবস্থার অদক্ষতা, মুদ্রার বিনিময় হারের চাপ ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধিও মূল্যস্ফীতি উসকে দিচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এই চাপ সামলাতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

এদিকে মাঠ পর্যায়ের বাজার পরিস্থিতির চিত্র বিবিএসের পরিসংখ্যানের চেয়েও ভয়াবহ। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফার্মের ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালের ভরা মৌসুমেও মোটা ও মাঝারি চালের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। বাজারে ৬০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো সবজি। পটল, ঢ্যাঁড়শ কিংবা চিচিঙ্গা—সবই বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে।

সরকার ভোজ্যতেলের দাম লিটারে চার টাকা বাড়ালেও বাজারে খোলা সয়াবিন তেল নির্ধারিত ১৮০ টাকার পরিবর্তে ১৯৪ থেকে ১৯৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে সবজি ও ডিমের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে ঊর্ধ্বমুখী বাজার দরে নাভিশ্বাস উঠছে সীমিত আয়ের মানুষের।

এসএইচ 

Link copied!