ফাইল ছবি
সংসদ সদস্যদের (এমপি) নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে এবার বড় অঙ্কের টাকা বরাদ্দের বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সিটি করপোরেশনের বাইরে থাকা আসনগুলোর জন্য ৯টি নতুন প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই সঙ্গে চলমান দুটি প্রকল্পের বাজেটও বাড়ানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে অতিরিক্ত ও নতুন খরচের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২৫ হাজার ৪১ কোটি টাকা। এতে গড়ে প্রতিটি সংসদীয় আসনের ভাগে পড়বে ৮০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ, যা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের প্রস্তাবের চেয়েও তিন গুণের বেশি।
পরিকল্পনা কমিশনের হিসাব বলছে, সংসদীয় আসনে আলাদা উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়ার চর্চা শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে। তখন আসনপ্রতি বরাদ্দ ছিল মাত্র দুই কোটি টাকা। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সেই অঙ্ক বেড়েছে। তবে বরাদ্দের বহর বাড়লেও অতীত অভিজ্ঞতা খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণায় দেখা গেছে, আগের প্রকল্পগুলোতে ব্যাপক দুর্নীতি, নিম্নমানের কাজ এবং কমিশন বাণিজ্যের ছড়াছড়ি ছিল। কাজ না করেই বিল তুলে নেওয়া কিংবা নির্ধারিত দৈর্ঘ্যের চেয়ে ছোট সড়ক তৈরির অসংখ্য অভিযোগ উঠেছিল তখন।
অতীতের অনিয়ম রোখার কোনো মজবুত কাঠামো তৈরি না করে একলাফে বরাদ্দ এতটা বাড়ানো নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু আসনের ওপর ভিত্তি করে টাকা বরাদ্দ দেওয়ায় ভৌগোলিক বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। দারিদ্র্যের হার বা অবকাঠামোর প্রকৃত চাহিদা না দেখে ঢালাওভাবে টাকা ভাগ করে দেওয়ায় তুলনামূলক অনুন্নত এলাকাগুলো অবমূল্যায়িত হচ্ছে।
তা ছাড়া চলমান অনেক প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা অব্যয়িত অবস্থায় পড়ে থাকলেও নতুন করে আরও হাজার কোটি টাকা যোগ করার প্রস্তাব প্রক্রিয়াটির স্বচ্ছতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। আগের তিক্ত অভিজ্ঞতা আর দলীয়করণের পথ বন্ধ না করে কেবল বরাদ্দের অঙ্ক বাড়ালে জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার কতটা নিশ্চিত হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
এসএইচ







































