• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

দেশবিরোধী যেকোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি: তারেক রহমান


নিজস্ব প্রতিবেদক নভেম্বর ৭, ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
দেশবিরোধী যেকোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি: তারেক রহমান

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল শোভাযাত্রার পূর্ব গণসমাবেশে দেশবিরোধী যেকোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি প্রধান তারেক রহমান।
 
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশ থেকে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের বাংলাদেশ গড়া ছিল মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্র কেড়ে নিয়ে বাকশাল চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা আবার গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে এনেছিল এবং স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছিল।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘পরাজিত শক্তি এখন আবার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। যারা বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি, তাদের ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। এ দেশের মানুষকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। সবাইকে একসঙ্গে ষড়যন্ত্র আবারও মোকাবিলা করতে হবে।’


  
তিনি বলেন, ‘একাত্তরের মতো, নব্বইয়ের মতো, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো আবারও দাঁতভাঙা জবাব আমরা দিতে চাই। আজকে ৭ নভেম্বরের বিপ্লব র‌্যালি হোক আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দিন, আজকের এই র‌্যালি হোক বাংলাদেশের স্বাধীনতা, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার দিন। একই সাথে যে গণতন্ত্রকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের মানুষ জীবন বিসর্জন দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছে, সেই গণতন্ত্রকে রক্ষার দিন হোক।’

পরে বেলা সোয়া তিনটার দিকে প্রধানমন্ত্রী শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধনের পর তিনি হেঁটে বিশাল শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন। নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কাকরাইল, প্রধান বিচারপতির বাসভবনের মোড়, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলামোটর ও ফার্মগেট প্রদক্ষিণ করে জনস্রোত নিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে একটি খোলা ট্রাকে নেতাকর্মীদের হ্যান্ড মাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন তারেক রহমান। 
 
পুরো শোভাযাত্রার গতিপথে অভূতপূর্ব দৃশ্য চোখে পড়ে। রাস্তার দুপাশে উৎসুক জনতার ঢল নামে, যেখানে সর্বস্তরের মানুষ লাল-সবুজ জাতীয় পতাকা নেড়ে এবং হাততালি দিয়ে মিছিলকে অভ্যর্থনা জানান। সুশৃঙ্খলভাবে বিএনপি ও সহযোগি বিভিন্ন সংগঠন নানা রঙের ব্যানার, ফেস্টুন, জাতীয় পতাকা এবং দলীয় পতাকা নিয়ে রাজপথগুলো স্লোগানে মুখরিত করে তোলে। 

এ দিন সকাল হতেই ঢাকা মহানগরের প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড এবং আশপাশের জেলাসমূহ থেকে বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে জড়ো হতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয় কেন্দ্রিক পুরো এলাকা এক জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
 
নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপচে পড়া জনস্রোতে নয়াপল্টন, বিজয়নগর, কাকরাইল, জাতীয় প্রেস ক্লাব ও বায়তুল মোকাররমসহ সম্পূর্ণ আশপাশের এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
 
স্বাধীনতা-উত্তর দেশের চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দিকবিদিকশূন্য পরিস্থিতিতে ১৯৭৫ সালের এই দিনে বীর সিপাহী ও সর্বস্তরের জনতা এক হয়ে এক ঐতিহাসিক বিপ্লব সংঘটিত করেছিল। সেদিন গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত হয়ে দেশপ্রেমিক সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন এবং নিজের দূরদর্শী নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন ও দেশের ভেঙে পড়া অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনেন।
 
সেদিনের সেই সিপাহী-জনতার ঐক্যই আজকের বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মূল ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে বিবেচিত।
 
ঐতিহাসিক দিবসটি উপলক্ষে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি সাত দিনব্যাপী বিস্তৃত রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ঘোষিত কর্মসূচির প্রথম দিন শনিবার ভোরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও দেশের সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সকালে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুরে তেজগাঁওয়ে অবস্থিত জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত গ্রামপুলিশের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে সস্ত্রীক যোগ দিয়ে প্রান্তিক পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।

দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, ঘোষিত এই সাত দিনের ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে সারা দেশের মানুষের কাছে জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও স্বাধীন দেশ রক্ষার মূল বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে। 

এসআই

Link copied!