ফাইল ছবি
চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে দেশের বাজারে বোতলজাত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের বা এলপিজির দাম বারবার ওঠানামা করেছে। এই সময়ে চারবার দাম কমলেও বাড়ার ঘটনা ঘটেছে পাঁচবার। দফায় দফায় এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ ভোক্তাদের রান্নার খরচ মেটাতে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। এরপর ফেব্রুয়ারিতে ৫০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা হলেও মার্চে সামান্য কমে তা ১ হাজার ৩৪১ টাকায় নামে।
তবে এপ্রিল মাসে এক লাফে ৩৮৭ টাকা বেড়ে দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৭২৮ টাকায়। মে মাসে আরও ২১২ টাকা বেড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকায় পৌঁছায়, যা চলতি বছরের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ নির্ধারিত দাম। অর্থাৎ বছরের শুরুর তুলনায় মে মাসে দাম বেড়েছিল প্রায় ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
মে মাসের পর জুন ও জুলাইয়ে টানা দুই মাস দাম কমে। জুলাইয়ে বড় পতন ঘটে দাম নেমে আসে ১ হাজার ৫২৮ টাকায়। তবে আগস্ট থেকে আবারও বাজার ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে। আগস্টে ৭০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা এবং সেপ্টেম্বরে ১৩ টাকা কমে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
সর্বশেষ অক্টোবর মাসে এক লাফে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৩০৯ টাকা এবং জানুয়ারির তুলনায় অক্টোবরে দাম বাড়তি রয়েছে ৫৩১ টাকা বা প্রায় ৪০ শতাংশ।
বিইআরসির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সর্বনিম্ন দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা এবং সর্বোচ্চ দাম ছিল ১ হাজার ৯৪০ টাকা। এই ১০ মাসে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দামের ব্যবধান দাঁড়ায় ৬৩৪ টাকায়।
আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করা হলেও বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন। সরকার নির্ধারিত এই দামেও বাজারে সচরাচর এলপিজি পাওয়া যায় না। দাম বাড়ার ঘোষণার আগে থেকেই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে খুচরা বাজারে প্রতিটি সিলিন্ডার আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
বাজারের এই চরম অস্থিতিশীলতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। ক্যাব সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান অভিযোগ করেছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এলপিজির দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করা হয়েছে এবং সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এই দাম বাড়ানো হয়েছে।
নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হলেও কঠোর নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষের পকেট কাটা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবার কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি। ইতোমধ্যে সেপ্টেম্বর মাসের আমদানি ও বিক্রির হিসাব চেয়ে ১২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বিইআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলা পর্যায় পর্যন্ত তদারকি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং নতুন দাম ঘোষণার পর বাজার মনিটরিং আরও কঠোর করা হবে।
এসএইচ







































