• ঢাকা
  • বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

আওয়ামী লীগের ভোট পেতে যে কৌশল সাজাচ্ছে জাতীয় পার্টি


নিজস্ব প্রতিবেদক ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫, ০৪:৪৭ পিএম
আওয়ামী লীগের ভোট পেতে যে কৌশল সাজাচ্ছে জাতীয় পার্টি

ফাইল ছবি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে চলে যাওয়ায় রাজনৈতিক মাঠে একটি বড় ভোটব্যাংক অনিশ্চিত অবস্থায় পড়েছে। এই শূন্যতা পূরণে সবচেয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টির দুই অংশই। একদিকে জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি, অন্যদিকে আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বে গঠিত নতুন জাতীয় পার্টি ও তাদের জোট-উভয়েরই এখন মূল লক্ষ্য আওয়ামী লীগের ভোট নিজেদের দিকে টেনে নেওয়া।

অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। শেখ হাসিনা দলীয় নেতৃত্বের বাইরে এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা কারাগারে কিংবা পলাতক। ফলে আওয়ামী লীগের সংগঠিত ভোটব্যাংক একটি দিকনির্দেশনাহীন অবস্থায় রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোটের বড় একটি অংশ আদর্শগতভাবে বিএনপি বা জামায়াতের দিকে যাবে না। এই বাস্তবতা থেকেই জাতীয় পার্টি নিজেদের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য বিকল্প হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।

জাতীয় পার্টির কৌশলের প্রথম স্তর হলো আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐতিহাসিক সখ্যের স্মৃতি জাগিয়ে তোলা। ১৯৮৬ সালে এরশাদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সরকার গঠনে জাতীয় পার্টির সমর্থন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে দুই দলের সমঝোতা এবং পরবর্তী সময়ে সরকারে অংশগ্রহণ-এই রাজনৈতিক ধারাবাহিকতাকে সামনে রেখে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের ভোটারদের কাছে বার্তা দিচ্ছে, তারা কখনো আওয়ামী লীগের বিরোধী শক্তি ছিল না।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, মুজিবুল হক চুন্নু, কাজী ফিরোজ রশীদসহ অনেক নেতা দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ সরকারের অংশ ছিলেন। এদের অনেকেই আওয়ামী লীগের ভোটারদের কাছে পরিচিত মুখ। এই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে নতুন জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের ভোটারদের কাছে নিজেদের স্বস্তিদায়ক বিকল্প হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।

জাতীয় পার্টির দুই অংশই এখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য আক্রমণ এড়িয়ে চলছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ, ফ্যাসিবাদ কিংবা নিষিদ্ধকরণ—এসব শব্দচয়ন সচেতনভাবে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোট টানতে গেলে অতিরিক্ত আদর্শিক অবস্থান বরং ক্ষতিকর হতে পারে। তাই জাতীয় পার্টির ভাষা এখন নীরব, সমন্বয়মুখী ও বাস্তববাদী।

জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির বড় শক্তি তাদের নির্বাচনী প্রতীক লাঙ্গল। গ্রামবাংলায় আওয়ামী লীগের অনেক ভোটার নৌকার বিকল্প হিসেবে লাঙ্গলকে গ্রহণযোগ্য মনে করেন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে এরশাদের নাম ও প্রতীকের প্রতি এখনো আবেগ রয়েছে। এই আবেগই আওয়ামী লীগের ভোট টানার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট এনডিএফ আওয়ামী লীগের ভোট টানতে জোট রাজনীতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তৃণমূল বিএনপি, জেপি, জনতা পার্টিসহ একাধিক দলকে সঙ্গে নিয়ে একটি মধ্যপন্থী জোট গঠনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ভোটারদের জন্য একটি নিরাপদ রাজনৈতিক আশ্রয় তৈরি করার চেষ্টা চলছে।

রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আছে, আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন অংশ সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে পরোক্ষ সহানুভূতি পাচ্ছে। এটি আওয়ামী লীগের ভোটারদের কাছে একটি স্থিতিশীলতার বার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে। বিপরীতে জি এম কাদেরের জাতীয় পার্টি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে তেমন সুবিধা পাচ্ছে না, যা তাদের কৌশলকে কিছুটা দুর্বল করছে।

তবে জাতীয় পার্টির সামনে বড় চ্যালেঞ্জও আছে। দলটির সংগঠন দুর্বল, তরুণ ভোটারদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা কম এবং জাতীয় পর্যায়ে শক্ত অবস্থান নেই। সাম্প্রতিক জরিপে জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য ভোটশক্তি খুবই সীমিত বলে উঠে এসেছে। ফলে আওয়ামী লীগের ভোট পেলেও তা কতটা রূপান্তরিত হবে, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের ভোট এখন রাজনৈতিক বাজারে সবচেয়ে মূল্যবান পুঁজি। সেই ভোট কে কতটা দক্ষভাবে ধরতে পারবে, তার ওপর অনেক আসনের ফল নির্ভর করবে। জাতীয় পার্টির দুই অংশের এই প্রতিযোগিতা শেষ পর্যন্ত কাকে সুবিধা দেবে, তা নির্ধারণ করবে ভোটারদের নীরব সিদ্ধান্তই।

এসএইচ 

Wordbridge School
Link copied!