• ঢাকা
  • বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ইসলামী আন্দোলন ৭০ আসন চায়, জামায়াতকে ১৫০’র বেশি নয়


নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
ইসলামী আন্দোলন ৭০ আসন চায়, জামায়াতকে ১৫০’র বেশি নয়

আসন্ন নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা চললেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। ফলে জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলের যে যৌথ আসন বণ্টনের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল, তা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন বাতিল করে জামায়াত। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রস্তুতিগত কিছু ঘাটতির কারণে সংবাদ সম্মেলন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে নতুন তারিখ জানানো হবে।

তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে। দলটির মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, সংবাদ সম্মেলন আয়োজন বা স্থগিত করার বিষয়ে জোটগত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যারা এককভাবে উদ্যোগ নিয়েছিল, তারাই তা স্থগিত করেছে।

দলীয় ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, আসন বণ্টন নিয়ে দুই দলের অবস্থান ক্রমেই দূরত্ব তৈরি করছে। ইসলামী আন্দোলন চায় ৫০টির বেশি আসনে প্রার্থী দিতে। সর্বশেষ আলোচনায় জামায়াত ৪৫টি আসন ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও পাঁচটি আসন উন্মুক্ত রাখার শর্ত জুড়ে দেয়, যেখানে জোটভুক্ত সব দল প্রার্থী দিতে পারবে। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন মোট আসনের অন্তত ১০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৩০টি আসন উন্মুক্ত রাখার দাবি জানায়, যা জামায়াত মেনে নেয়নি।

ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের ধারণা, জামায়াত যদি প্রায় ১৯০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তবে তারাও ৬০ থেকে ৭০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে পারে।

সমঝোতা ভেঙে পড়লে বিকল্প পথ খোঁজার প্রস্তুতিও নিচ্ছে ইসলামী আন্দোলন। দলটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তারা নতুন করে আটটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। এর মধ্যে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলভুক্ত কয়েকটি দল ছাড়াও বাংলাদেশ লেবার পার্টির সঙ্গেও আলোচনা চলছে।

ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, জামায়াতকে যদি ১৫০ আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে রাজি করানো যায়, তবে নতুন করে সমঝোতার সুযোগ তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ অন্য দলগুলোকেও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার আগ্রহ রয়েছে তাদের।

বুধবার বিকেলে গাজী আতাউর রহমান বলেন, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি এবং ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। এই সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন আসতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

জামায়াত–ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলন শুধু আসন বণ্টন নয়, সম্ভাব্য সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সরকারপ্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধান কে হবেন—এ বিষয়েও আগাম স্পষ্টতা চাচ্ছে। তবে জামায়াতের অবস্থান হলো, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনো আসেনি।

এদিকে ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকলে, তাদের বাদ দিয়েই অন্য দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা চূড়ান্ত করার বিকল্প ভাবছে জামায়াত। সে ক্ষেত্রে শরিক দলগুলো অতিরিক্ত কিছু আসন পেতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে রামপুরার একটি মাদ্রাসায় ইসলামী আন্দোলনের শুরা কাউন্সিলের বৈঠকে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ পায়। পরে বুধবার দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম মজলিসে আমেলার বৈঠকেও বিষয়টি আলোচিত হয়।

বৈঠক শেষে ইসলামী আন্দোলন জানায়, আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।

এম

Wordbridge School
Link copied!