ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে দলীয় চূড়ান্ত অবস্থান আগামীকাল শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানাবে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক শেষে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এর আগে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপিসহ ১১ দলের নির্বাচনী ঐক্যের একক প্রার্থী ঘোষণা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। আমন্ত্রণ জানানো হলেও সেখানে যোগ দেননি ইসলামী আন্দোলনের নেতারা।
জানা গেছে, আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে গত তিন সপ্তাহ ধরে মতবিরোধ চলছে। জামায়াত সর্বোচ্চ ৪৫টি আসন ছাড়তে সম্মত হলেও ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে অন্তত ৬৫টি আসনের দাবি জানানো হয়। এই বিরোধের জেরে বুধবার জামায়াত সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থগিত করা হয়। একই দিনে ইসলামী আন্দোলন আভাস দেয়, প্রয়োজনে তারা কয়েকটি শরিক দল নিয়ে পৃথক জোট গঠন করতে পারে।
তবে বৃহস্পতিবার দুপুরে ইসলামী আন্দোলনকে বাদ দিয়েই জামায়াত কার্যালয়ে বাকি ১০ দলের নেতারা বৈঠকে বসেন। সেখানে ২৫০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। জানানো হয়, ইসলামী আন্দোলনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ৫০টি আসন খালি রাখা হচ্ছে।
১১ দলের সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ২৪১টি আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াত ১৭৬টি, এনসিপি ২৭টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১৬টি, খেলাফত মজলিসের অপরাংশ ৯টি, এলডিপি ৭টি, এবি পার্টি ৩টি, বিডিপি ২টি এবং নেজামে ইসলাম পার্টি ১টি আসনে প্রার্থী দেবে। জাগপা ও খেলাফত আন্দোলন জোটে থাকলেও তাদের কোনো প্রার্থী থাকবে না। ভবিষ্যতে উচ্চকক্ষে এই দুই দল থেকে একজন করে প্রতিনিধি দেওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত হাসান সোহরাওয়ার্দীসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের পর মজিবুর রহমান মঞ্জু জানান, ইসলামী আন্দোলন এখনও ১১ দলীয় ঐক্যের অংশ রয়েছে এবং তাদের জন্য ৫০টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আলী আশরাফ আকন সন্ধ্যায় জানান, তারা বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে যাচ্ছেন না এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।
গত মে মাসে ইসলামপন্থী দলগুলোর ভোট এক বাক্সে আনার ঘোষণা দিয়ে ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দল ঐক্য গঠনের আলোচনা শুরু করেছিল। পরে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বিএনপির জোটে যোগ দেয় এবং জামায়াত যুক্ত হয় ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, চরমোনাই পীরের দলকে ছাড়া বাকি সব শরিক দল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. তাহের জানিয়েছেন, তারা এখনও ইসলামী আন্দোলনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং দলটি শেষ পর্যন্ত ঐক্যে থাকবে বলে আশাবাদী।
এসএইচ







































