ফাইল ছবি
সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণের কাছাকাছি দামে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি সিলিন্ডার। কোথাও কোথাও গ্যাস নেই অজুহাতে গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। অথচ কাগজপত্রে আমদানির পর্যাপ্ত ঘাটতি না থাকলেও বাজার নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টঙ্গী, আজিমপুর ও ধানমন্ডিসহ রাজধানী এবং এর আশপাশের এলাকায় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। অনেক দোকানে সিলিন্ডার নেই বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হলেও বাড়তি দাম দিলে ঠিকই গ্যাস মিলছে।
বর্তমানে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা হলেও খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে শুরু করে আড়াই হাজার টাকায়। নতুন বোতলসহ কিনতে গেলে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে চার হাজার টাকা পর্যন্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপেও সাধারণ ক্রেতারা অতিরিক্ত দামের প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
এদিকে আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট খাতসংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য বলছে, দেশে এলপিজির কোনো আমদানি ঘাটতি নেই। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) হিসাব অনুযায়ী, আগস্ট মাসে ১ লাখ ৫৭ হাজার মেট্রিক টন এবং সেপ্টেম্বর মাসে ১ লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও বাজারে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে কারসাজি রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত শনিবার সেপ্টেম্বর মাসের আমদানি ও বিক্রির সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়ে ১২টি এলপিজি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছে বিইআরসি। একই সঙ্গে সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ দেশের ১৬টি জেলায় একযোগে বিশেষ তদারকি অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের ২৩টি টিমের পরিচালিত ওই অভিযানে নানা অনিয়মের দায়ে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বিইআরসি ও মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বাজার স্বাভাবিক রাখতে ডিলার ও খুচরা পর্যায়ে কঠোর মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে এবং শিগগিরই নতুন মূল্য ঘোষণা করা হবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অযৌক্তিক মজুতদারির বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এসএইচ







































