• ঢাকা
  • বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

লক্ষ্মীপুর-৩ আসন: বিএনপির ঘাঁটিতে জিততে মরিয়া জামায়াত


লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ০১:২৪ পিএম
লক্ষ্মীপুর-৩ আসন: বিএনপির ঘাঁটিতে জিততে মরিয়া জামায়াত

ফাইল ছবি

১৯৯১ সাল থেকে লক্ষ্মীপুরকে বিএনপির ঘাঁটি বলা হতো। এ ঘাঁটির ভেতরে চারদলীয় জোটের আড়ালে জামায়াতে ইসলামী থাকলেও এতদিন ততটা দাপুটে ছিল না। তাদের সাংগঠনিক শক্তিও ছিল অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালে। গত ৫ আগস্টের পর দলটির দৃশ্যমান উত্থান ঘটেছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে এখন বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে জামায়াত।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ভোটের ফসল ঘরে তুলতে তুমুল ব্যস্ত বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. রেজাউল করিম। প্রচারণায় দুজনই সন্ত্রাস ও মাদক সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা কমিটির আহ্বায়ক। ড. রেজাউল করিম জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর (উত্তর) সেক্রেটারি। ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত এ্যানি ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। রেজাউল করিম ২০০৯ ও ২০১০ সালে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। জাতীয় পর্যায়ে দুজনই পরিচিত মুখ।

আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ছাড়া এ নির্বাচনে প্রচারণার শেষ সময়ে শীর্ষ দুই দলের প্রার্থীরা গ্রামে গ্রামে যাচ্ছেন। ভোটারদের নানা সমস্যার কথা শুনছেন। প্রার্থীদের স্ত্রী-সন্তানেরাও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং ভোট প্রার্থনা করছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী এলাকাছাড়া হয়েছেন। এলাকায় থাকা কর্মী-সমর্থকদের অনেকেই নিষ্ক্রিয়। নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের ভোটারদের কদর বেড়েছে প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের কাছে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে ছয়জন প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি (বিএনপি), ড. রেজাউল করিম (জামায়াত), মো. ইব্রাহিম (ইসলামী আন্দোলন), এ কে এম মহি উদ্দিন (জাতীয় পার্টি), মো. শামছুদ্দিন (এলডিপি) ও সেলিম মাহমুদ (এনপিপি)। এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৪৭২।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৭৩ সালে বিনা ভোটে শেখ মুজিবুর রহমানের সংসদ সদস্য হন শাহজাহান কামাল (আওয়ামী লীগ)। ১৯৭৯ সালে মাস্টার সফিক উল্যা (জামায়াত), ১৯৮৬ সালে মোহাম্মদ উল্যা (জাতীয় পার্টি), ১৯৮৮ সালে আবদুস সাত্তার মাস্টার (জাসদ), ১৯৯১ সালে খায়রুল এনাম (বিএনপি), ১৯৯৬ সালে নুরুল আমিন ভূঁইয়া (বিএনপি) ও খায়রুল এনাম (বিএনপি), ২০০১ ও ২০০৮ সালে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি (বিএনপি), ২০১৪ ও ২০১৮ সালে এ কে এম শাহজাহান কামাল (আওয়ামী লীগ) নির্বাচিত হন।

২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শাহজাহান কামালের মৃত্যু হয়। পরে নির্বাচন কমিশন আসনটি শূন্য ঘোষণা করলে উপনির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তিনি নির্বাচিত হন।

লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মেহেনাজ সুলতানা বলেন, যে-ই ক্ষমতায় আসুক, আমরা চাই সন্ত্রাস স্থায়ীভাবে রোধ হোক। আমরা শান্তি চাই, খুনোখুনি চাই না।

অটোরিকশাচালক ফারুক হোসেন বলেন, দুই বেলা খেয়ে বাঁচতে চাই। দেশ ভালো থাকলে আমরাও ভালো থাকব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ আসনে ছয়জন প্রার্থী থাকলেও মূলত বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীই ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। সমানতালে তাঁরা গণসংযোগ ও পথসভা করছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে প্রচারণা।

ড. রেজাউল করিম বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য প্রশাসনকে জানিয়েছি। অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের আহ্বান জানাচ্ছি। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমাদের নারী কর্মীদের বাধা দেওয়া ও মারধরের অভিযোগও রয়েছে। নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদী।

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, শুরু থেকেই আমরা প্রত্যেকটি গ্রামে যাচ্ছি। ভোটারদের কাছে গিয়ে তাঁদের সমস্যার কথা শুনছি। এ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কৃষক। তাঁদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য আমার পরিকল্পনা রয়েছে। আমি এমপি থাকাকালে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। ভোটাররা আমাকে আবারও বিজয়ী করবেন।

এসএইচ 

Wordbridge School
Link copied!