ছবি : প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার তালায় এক সপ্তাহে সাংবাদিকসহ তিনজনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা নুর ইসলামের বিরুদ্ধে। এবার বাবু গাজী নামে এক যুবককে মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার হাজরাকাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি তালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এর আগে গত ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে কেটন সরদার ও সাংবাদিক জহর হাসান সাগরের উপর হামলা চালায় যুবদল নেতা নুর ইসলাম ও তার বাহিনী। নুর ইসলামের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ায় সাংবাদিক জহর হাসানের ওপর এই হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক ২৬ ফেব্রুয়ারি তালা থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।
অভিযুক্ত নূর ইসলাম সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার হাজরাকটি গ্রামের মৃত. আ. রহমান বিশ্বাসের ছেলে। একই সঙ্গে তিনি উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বেপরোয়া হয়ে উঠেন নুর ইসলাম। দখল, চাঁদাবজি, ডাকাতি, মারপিট, হত্যা-হুমকিসহ একাধিক অপরাধ যজ্ঞের সম্রাজ্য তৈরি করেন নুরু। সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রবের পৈত্রিক জমি ও দোকান ঘর দখল করেন নুর ইসলাম ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। এ ঘটনায় নুর ইসলামকে দুই দফায় সেনাবাহিনী হেফাজতে নেন। সর্বশেষ সাংবাদিকের উপর হামলা ও যুবককে পিটিয়ে আহতের ঘটনায় ফের আলোচনায় আসেন যুবদল নেতা নুর ইসলাম।
আহত বাবু গাজী জানান, তার ছেলে সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি চলছিল। এ সময় খলিলনগর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম বিশ্বাস ঘটনাস্থলে এসে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন। প্রতিবাদ করলে নুরু তার ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় বাবু গাজীকে উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সাংবাদিক জহর হাসান জানান, যুবদল নেতা নুর ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়ায় তিনি হত্যার হুমকি পাচ্ছিলেন। গত বুধবার হাজরাকাটি বাজারে মুখোমুখি হলে নুর ইসলাম তর্কের একপর্যায়ে তার ওপর নৃশংস হামলা চালান। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
খলিলনগর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রব জানান, নুর ইসলাম আমার পৈতৃক জমি ও দোকান দখল করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করছে। তার বিরুদ্ধে মাদক, হত্যা ও ডাকাতিসহ অসংখ্য অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এসব অন্যায়ের প্রতিকারে আমি ইতিমধ্যে আদালত, সেনাবাহিনী ক্যাম্প এবং থানায় মামলা ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
অভিযুক্ত নুরু ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বক্তব্য দেওয়ার একপর্যায়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
তালা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আতিয়ার রহমান বলেন, আহত সাংবাদিককে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সাংবাদিকসহ সাধারণ জনগণের গায়ে হাত দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। ভুক্তভোগী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে দলীয়ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, সাংবাদিককে মারপিটের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছে কয়েক দফায়। তার এজাহারটি অফিসিয়াল শর্ত পূরণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া বাবু গাজী নামের অপর ব্যক্তির মারপিটের ঘটনাটি জেনেছি। তার বিষয়ে তদন্ত চলছে।
পিএস







































