ছবি: প্রতিনিধি
রংপুরে ৩১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০০ শয্যার আধুনিক শিশু হাসপাতালটি নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার ছয় বছর পার হলেও এখনো চালু হয়নি। ফলে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। আধুনিক সব সুবিধা থাকা সত্ত্বেও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে হাসপাতালের কোটি কোটি টাকার স্থাপনা ও সরঞ্জাম।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র ৮০ শয্যার বিপরীতে চিকিৎসা নিচ্ছে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিশু। ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগী আসায় মেঝেতেও জায়গা পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকরা জানান, এখানে প্রতি মাসে গড়ে ৫০ জনেরও বেশি শিশু মারা যাচ্ছে। হাসপাতালটিতে বর্তমানে নতুন করে হামের প্রাদুর্ভাব যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
শহরের সিটি করপোরেশনের সামনে সদর হাসপাতালের ১ একর ৭৮ শতাংশ জমির ওপর তিনতলা বিশিষ্ট এই হাসপাতাল ভবন ও আবাসিক কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়। ২০২০ সালের ৮ মার্চ স্বাস্থ্য বিভাগকে ভবনটি বুঝিয়ে দেয় গণপূর্ত বিভাগ। এরপর ২০২৩ সালে প্রশাসনিক অনুমোদন ও জনবল ছাড়াই তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালটির উদ্বোধন করলেও আজ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। এটি চালু করার বিষয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ১৫ বারের বেশি চিঠি চালাচালি এবং একাধিক কমিটি গঠন করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।
মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ ও সুজনের জেলা সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম এই দীর্ঘসূত্রতাকে স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যর্থতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা বলেন, জনগণের টাকায় নির্মিত এই সম্পদ নষ্ট হওয়া এবং শিশুদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত না হওয়া চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয়।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আ.ন.ম তানভীর চৌধুরী (নোমান) বলেন, পূর্ণাঙ্গ এই শিশু হাসপাতালটি চালু হলে এই অঞ্চলের শিশুদের জটিল সার্জারি ও অন্যান্য উন্নত চিকিৎসা স্বল্প খরচে দেওয়া সম্ভব হতো।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপ-পরিচালক ডা. মো. ওয়াজেদ আলী জানান, হাসপাতালটি চালুর বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ভবন ও সরঞ্জাম বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ার আগেই প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে এটি দ্রুত চালুর আশ্বাস দেন তিনি। উত্তরাঞ্চলের শিশুদের উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে এই হাসপাতালটি এখন নগরবাসীর প্রধান দাবিতে পরিণত হয়েছে।
এসএইচ







































