• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

শিক্ষক-ছাত্রীর বিয়ে নিয়ে তোলপাড়, তদন্ত কমিটি গঠন


ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি  নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
শিক্ষক-ছাত্রীর বিয়ে নিয়ে তোলপাড়, তদন্ত কমিটি গঠন

ছবি : প্রতিনিধি

ঈশ্বরদী: পাবনার ঈশ্বরদীতে মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর সঙ্গে একই বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক মোশারফ হোসেন মুসার বিয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা তদন্তে বিদ্যালয়ের শিক্ষক আয়েশা খাতুনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে পরিচালনা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে বুধবার সকালে শিক্ষক মুসা বিদ্যালয়ে গেলে অন্য শিক্ষকরা তাঁকে প্রবেশে বাধা দেন। তাঁদের বাধার মুখে বিদ্যালয়ের ফটক থেকেই বাড়ি ফিরে যান তিনি।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মোশারফ হোসেন মুসা গত ১৩ বছর ধরে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে ওই বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর বাড়ি উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষক মুসার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৩০ অক্টোবর ওই ছাত্রী শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং সেখানে অবস্থান নেন। দুই থেকে তিন দিন অবস্থানের পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের চাপে ওই রাতেই তাঁদের বিয়ে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বিষয়টি জানাজানি হয় পাঁচ দিন পর। এরপর বিদ্যালয়, অভিভাবক মহল ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এদিকে শিক্ষক মোশারফ হোসেন মুসার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওই ছাত্রীকে বিয়ে করার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে ছাত্রী তাঁর বাড়িতে দুই দিন অবস্থান করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব না দিয়ে ফোন কেটে দেন।

মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি ঈশ্বরদী উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন বলেন, ‘অভিভাবকেরা ভরসা করে বিদ্যালয়ে তাঁদের মেয়েকে পাঠান। শিক্ষকের কাছ থেকে এমন ঘটনা দুঃখজনক।’

মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি তসলিম আরিফ তুষার বলেন, ‘এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ঘটনা। এতে বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সুনাম নষ্ট হয়েছে। বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণকারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঈশ্বরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষক হয়ে একই বিদ্যালয়ের ছাত্রীর সঙ্গে বিয়ের ঘটনায় নৈতিক স্খলন ঘটিয়েছেন। এ ছাড়া বাল্যবিবাহ দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করি।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিচালনা কমিটির সভায় শিক্ষক আয়েশা খাতুনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে শিক্ষক মোশারফ হোসেন দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পিএস

Link copied!