• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

গুরুতর অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ


নিজস্ব প্রতিবেদক নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
গুরুতর অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ

ফাইল ছবি

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠন, দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রহীনতা এবং নারী অধিকার উপেক্ষার গুরুতর অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেত্রী সামান্তা শারমিন। গত এক বছর ধরে দলের ভেতরে নীতিগত ও আদর্শিক সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার পর তিনি এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ ঘোষণায় পদত্যাগের বিষয়টি প্রকাশ করেন সামান্তা শারমিন। তিনি জানান, আজ থেকে প্রায় এক বছর আগে তিনি এনসিপির জোট গঠনের প্রশ্নে আলাদা অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁর মতে, জামায়াতে ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত কোনো ক্ষেত্রেই মিত্র হওয়ার যোগ্য নয় এবং তাদের সঙ্গে জোট করার কারণে এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হচ্ছে।

জামায়াত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংবিধানিক, আইনি এবং রাজনৈতিক সংস্কারের কোনোটিকে নিজ দলের রাজনীতি ও রাষ্ট্রপ্রকল্পের অংশ মনে করে না। সংগঠনটির দার্শনিক ভিত্তি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিপন্থী এবং তারা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সব সুবিধা কাজে লাগিয়ে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই নিজেদের রাজনৈতিক অভিপ্রায় হিসেবে পোষণ করে। এনসিপি যখন জামায়াতকে সংস্কারের পথে বন্ধু মনে করেছে, তখন সাধারণ মানুষ সেই রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচনী কৌশল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামান্তা শারমিন বলেন, ২৬-এর নির্বাচনকে একটি রাজনৈতিক নির্বাচন হিসেবে পরিচালনা করার সুযোগ থাকলেও এনসিপি তা না করে বড় রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এর মাধ্যমে দলটি নিজস্ব রাজনীতি ও অভ্যুত্থানোত্তর নতুন রাজনীতির সম্ভাবনাকে নিঃশেষ করেছে। শহীদ ওসমান হাদীর মৃত্যুর ঘটনাকে অগণতান্ত্রিক ও পুরাতন রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বড় দলের সঙ্গে জোট করার পক্ষে যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অভ্যুত্থানে নারীর ভূমিকা ও অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নারীরা সম্মুখসারির যোদ্ধা ও রক্ষাকর্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও বিজয়ের পর পুরোনো রক্ষণশীল রাজনৈতিক পক্ষগুলো নারীদের মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে সক্রিয় হয়েছে। এনসিপিও সেই নারীবিরোধী রক্ষণশীল রাজনৈতিক প্রবণতার সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করেছে এবং দলের কাঠামোর ভেতরেই বৈষম্যমূলক ক্ষমতাকাঠামো পুনরুৎপাদন করেছে।

দলের অভ্যন্তরীণ গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সামান্তা শারমিন উল্লেখ করেন, নির্ধারিত সময়ে কাউন্সিল না করে আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে এনসিপি দলের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিরোধীমত দমনের এই পুরোনো প্রক্রিয়া পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর চর্চারই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পররাষ্ট্রনীতি ও ভবিষ্যৎ রাজনীতির রূপরেখা সম্পর্কে তিনি জানান, বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো দেশের প্রতি অন্ধ আনুগত্য বা দ্বৈত নীতি চলতে পারে না। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা চীন-যে দেশের সঙ্গেই চুক্তি হোক না কেন, একমাত্র রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিভাজনের রাজনীতির বিপরীতে গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব, নারীর সমান অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি সমমনাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

এসএইচ 

Link copied!