• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

যে কারণে প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মঘণ্টা ও ছুটি নিয়ে অসন্তোষ


নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
যে কারণে প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মঘণ্টা ও ছুটি নিয়ে অসন্তোষ

ফাইল ছবি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাসের সময় এবং শিক্ষকদের কর্মঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে শিক্ষক সমাজে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এক শিফটের বিদ্যালয়ে দৈনিক ক্লাসের সময় ৩০ মিনিট এবং দুই শিফটের বিদ্যালয়ে ১৫ মিনিট বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রতি প্রকাশিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা নিয়েও আপত্তি তুলেছেন শিক্ষক নেতারা।

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) থেকে দেওয়া ক্লাস রুটিন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এক শিফটের বিদ্যালয়ে আগে ক্লাস শেষ হতো বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে। নতুন রুটিন অনুযায়ী ২০২৬ সালে এসব বিদ্যালয়ে ক্লাস চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ফলে এক শিফটের বিদ্যালয়ে কর্মঘণ্টা বেড়েছে আধা ঘণ্টা।

অন্যদিকে, দুই শিফটের বিদ্যালয়ে ২০২৫ সালে ছুটি হতো বিকেল ৪টায়। নতুন রুটিনে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ছুটি হবে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে। এতে দুই শিফটের বিদ্যালয়ে কর্মঘণ্টা বেড়েছে ১৫ মিনিট।

কর্মঘণ্টা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. বদরুল আলম মুকুল বলেন, শিক্ষকদের সঙ্গে বসে পরামর্শ করে সুন্দর একটি রুটিন করা হলে ভালো হতো। পড়ানোর দায়িত্ব শিক্ষকদের, কিন্তু রুটিন করেন কর্মকর্তারা। মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নকারীদের মতামত এখানে গুরুত্ব পাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, কর্মঘণ্টা বাড়ালেই যে পাঠদানের মান বাড়বে, বিষয়টি সব ক্ষেত্রে এমন নয়। আন্তরিকতা ও সঠিক কৌশল থাকলে কম সময়েও ভালো পাঠদান সম্ভব। শিক্ষার্থীর শেখা শুধু সময়ের ওপর নির্ভর করে না।

শিক্ষকদের ক্ষোভের আরেকটি বড় কারণ সম্প্রতি প্রকাশিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাৎসরিক ছুটির তালিকা। শিক্ষক নেতারা বলছেন, ছুটির তালিকায় শুক্র ও শনিবারকে ছুটির দিন হিসেবে গণনা করা হয়েছে, যা আগের বছরগুলোতে করা হতো না। পাশাপাশি রমজান মাসে পর্যাপ্ত ছুটি না থাকায় অসন্তোষ আরও বেড়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছুটির তালিকায় বেশ কিছু অসংগতি দেখা যাচ্ছে। অতীত বছরগুলোতে শুক্র ও শনিবার শূন্য দিন হিসেবে গণনা করা হলেও এবার কিছু ক্ষেত্রে সেগুলো ছুটির অংশ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।

তালিকার ৮ নম্বর ক্রমিকে ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ঘোষিত ছুটির মধ্যে দুটি শুক্রবার ও দুটি শনিবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আবার ২৮ নম্বর ক্রমিকে ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘোষিত ১০ দিনের ছুটির মধ্যেও শুক্র ও শনিবার ধরা হয়েছে। এতে মোট ছয় দিন সাপ্তাহিক ছুটি অতিরিক্তভাবে ছুটির হিসেবে যোগ হয়েছে।

রমজান মাসে ছুটি বাড়ানোর দাবিও জোরালোভাবে তুলেছেন শিক্ষকরা। তাদের মতে, সিয়াম পালন করে শ্রেণি পাঠদান করা শিক্ষকদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। অনেক কোমলমতি শিক্ষার্থীও রোজা রেখে বিদ্যালয়ে আসে, যা তাদের জন্য শারীরিকভাবে কঠিন হয়ে পড়ে। অধিকাংশ শিক্ষক নারী হওয়ায় বিদ্যালয়ের কাজ শেষে বাসায় ফিরে ইফতার প্রস্তুতির চাপও থাকে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি মো. আনিসুর রহমান বলেন, এ বছরের ছুটির তালিকায় মোট ৬৪ দিনের ছুটির কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে আট দিন শুধু শুক্র ও শনিবার। গত বছর সাপ্তাহিক ছুটি বাদ দিয়ে রমজানে কার্যত ১৩ দিনের ছুটি পাওয়া যেত। এবার শুক্র-শনিবারসহ হিসাব করে ১৫ দিন ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, এর ফলে শ্রান্তি বিনোদন ভাতা পেতে শিক্ষকদের আরও এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। কারণ এই ভাতা পেতে টানা ১৫ দিনের ছুটি বাধ্যতামূলক। নতুন ছুটির তালিকা অনুযায়ী তিন বছরের জায়গায় চার বছরে গিয়ে এ ভাতা পাওয়া যাবে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

শিক্ষক সংগঠনগুলো বলছে, দ্রুত ছুটির তালিকা সংশোধন এবং রুটিন নির্ধারণে শিক্ষকদের মতামত যুক্ত না হলে মাঠপর্যায়ে অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।

এসএইচ 

Wordbridge School
Link copied!