• ঢাকা
  • রবিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২১, ৯ কার্তিক ১৪২৮

ইভ্যালির পণ্য বিক্রি হচ্ছে খোলা বাজারে


নিউজ ডেস্ক সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১, ০৩:২৩ পিএম
ইভ্যালির পণ্য বিক্রি হচ্ছে খোলা বাজারে

ঢাকা: বাংলাদেশের আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চেয়ারম্যান এবং এমডি গ্রেফতারের সুযোগ নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারীরা। প্রতিষ্ঠানটির ওয়্যারহাউজ থেকে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোনসহ বেশ কিছু পণ্য সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

পরে সেগুলো খোলা বাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ইভ্যালির কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন: নিজের কিডনি দিয়ে পুলিশ ছেলের জীবন বাঁচালেন মা 

জানা গেছে, ইভ্যালির সিইও মো. রাসেল গ্রেফতার হন ১৬ সেপ্টেম্বর। ওই দিন ইভ্যালির প্যাকেজিং সেকশনের দায়িত্বে থাকা মোজাম্মেল ও তার শ্যালক জাহাঙ্গীরের সহযোগীরা মিলে কার্টনজাত কিছু পণ্য সাভারের হেমায়েতপুরের পূর্বহাটি এলাকায় নিয়ে আসা হয়। মোজাম্মেলের শ্বশুরবাড়িতে রাখা সেই কার্টনে ছিল দামি মোবাইলসহ নানা পণ্য। পণ্যগুলো পরে বাইরে বিক্রি করার অভিযোগ ওঠে।  

আরও পড়ুন: আঁখিনুরের ফেরার গল্প হার মানায় সিনেমাকেও 

ইভ্যালির মালামাল বাইরে বিক্রির বিষয়ে সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন গ্রহক আহাদ আহম্মেদ। তিনি মোজাম্মেলের সেই বাড়িতে কয়েকবার গেছেন। বাড়িতে থাকা পণ্যগুলোর আনুমানিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে দাবি এই প্রত্যক্ষদর্শীর।  

তিনি জানান, এমডি গ্রেফতারের পর দিন ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে ইভ্যালির ১০-১২ জন গ্রাহক মোজাম্মেলের সেই বাড়ির সন্ধান পান। তারা নিজেদের অর্ডার করা পণ্য বুঝে পাওয়ার জন্য শনিবার সেখানে যান। সেখান থেকে তাদের দাবি করা পণ্য বুঝে দিতে একদিন সময় চান মোজাম্মেল। সেই সময় পার হয়ে যাওয়ার পর থেকেই বন্ধ রয়েছে মোজাম্মেলের মোবাইল ফোন।  

আরও পড়ুন: প্রাথমিকের শূন্য পদে নিয়োগ শিগগিরই

আহাদ আহম্মেদ আরও জানান, হেমায়েতপুরে মোজাম্মেলের শ্বশুরবাড়িতে আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ কার্টনভর্তি পণ্যের খোঁজ পান তিনি। তারপরই সেখানে যান। ওই বাসায় ঘরভর্তি কার্টন খুলে দুটি কার্টনে আইফোন ও রিয়েলমি ব্র্যান্ডের মোবাইল দেখতে পান। সে সময়ও মোজাম্মেল জানান, বাকি কার্টনভর্তি মোবাইল ও মোবাইল এক্সেসরিজ রয়েছে।  

তিনি আরও বলেন, তখন আমার সঙ্গে আরও ১০ থেকে ১৫ জন গ্রাহক ছিলেন। তারা পণ্য চাইলে মোজাম্মেল বলেন যে, ‘আগামীকাল পর্যন্ত সময় দেন, আমরা সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আপনাদের ব্যবস্থা করব। ’ পরদিন বিকেল থেকে মোজাম্মেলের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। পরে রোববার আবার মোজাম্মেলের শ্বশুরবাড়িতে এসে দেখি, তিনি ও তার শ্বশুর এজাজ বাসায় নেই। সেই সঙ্গে তাদের ঘরভর্তি মোবাইল ফোনের কার্টনও নেই।  

আরও পড়ুন: পদ বাড়ছে প্রাথমিকে, বেতন-পদোন্নতি নিয়েও এলো সুখবর

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাভারে মোবাইল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এক যুবক বলেন, শনিবার ৩০০ পিস ও রোববার ২০০ পিস রিয়েলমি-৮ ৫জি মডেলের ফোন সাভারের বাজারে ছোট হোলসেলারদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে ১৯ হাজার ৭০০ টাকা করে। হেমায়েতপুর মোজাম্মেলের শ্বশুরবাড়ির এলাকা পূর্বহাটি থেকেই এ ফোনগুলো ডেলিভারি করা হয়।  

ওই যুবক বলেন, ফোনগুলো কে ডেলিভারি করেছে, তা তিনি জানেন না। ইভ্যালি ছাড়া এই মডেলের মোবাইল ফোন এত কম দামে অন্য কেউ আর বাজারে ছাড়েনি। সাধারণত এই ফোনটির পাইকারি মূল্য ২০ হাজার টাকার ওপরে। আমি তো শুধু ৫০০ পিসের সন্ধান পেয়েছি। প্রায় ২০ হাজার টাকা করে যদি ৫০০ মোবাইল বিক্রি করে দেওয়া হয়, তাহলে ইতোমধ্যে কোটি টাকার মোবাইল বিক্রি হয়েছে।  

মোজাম্মেলের পরিবারের এক সদস্য বলেন, যেদিন রাসেল গ্রেফতার হন ওই দিন (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে একটি মাইক্রোবাস ও একটি লেগুনা গাড়িতে করে পণ্যগুলো তাদের বাড়িতে আনা হয়। মানুষ ঝামেলা করতে পারে তাই মালগুলো রাতে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে শনিবার বিকেল ৩টার দিকে পণ্যগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়।  

অভিযোগের বিষয়ে মোজাম্মেল ও জাহাঙ্গীরের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।  

এ বিষয়ে জানতে ইভ্যালির প্রশাসন বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।  

প্রসঙ্গত, গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় দায়ের করা মামলায় গত বৃহস্পতিবার ইভ্যালির  এমডি মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। এরই মধ্যে সেলারদের রেগুলার বিল দিতে না পারায় ‘ইভ্যালি টি-টেন’ অফারের অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সূত্র-আজকের পত্রিকা 

সোনালীনিউজ/আইএ

Haque Milk Chocolate Digestive Biscuit
Wordbridge School
Sonali IT Pharmacy Managment System