ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশি এবং ২ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন।
নিহতদের দেহ আগামীকাল শনিবার (২২ আগস্ট) দেশে ফেরানোর ডেডলাইন নির্ধারণ করেছে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন। তবে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা সম্ভব হলে আজ শুক্রবারেই (২১ আগস্ট) মরদেহগুলো দেশে পাঠানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে নিউমার্কেটের ১৫জি মির্জা গালিব স্ট্রিটে অবস্থিত ‘শিখা ইন’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে সাত বাংলাদেশি এবং দুই ভারতীয়সহ মোট ৯ জন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কলকাতার মেডিকেল কলেজের মর্গে নিহতদের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শেষ হয়। এরপর ভারতীয় দুই নাগরিক- ঝাড়খণ্ডের সন্দীপ পাসোয়ান (১৯) ও শিলিগুড়ির যোগ নারায়ণ আগরওয়ালের (৬৮) দেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অন্যদিকে, নিহত সাত বাংলাদেশি হলেন- আকরাম আলী (৭৪), দেবাশীষ দত্ত (৩৯), আফসানা শিরমিন (২৭), সর্নাশীষ দত্ত (২), বাবু আহমেদ (৩৭), রেবতী সরকার ও এস এম আলিমুজ্জামান।
নিহত দেবাশীষের পরিবার শুক্রবারেই মরদেহ দেশে নেওয়ার অনুরোধ জানালে বৃহস্পতিবার রাতে জরুরি বৈঠক ডাকে বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন। বৈঠক শেষে হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে পারলে শুক্রবার দেহ বাংলাদেশে ফেরানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। তবে সর্বোচ্চ ডেডলাইন থাকবে শনিবারই।
এদিন আরো একটি পাবলিক নোটিশে ডেপুটি হাইকমিশন জানায়, নিউমার্কেট এলাকায় সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশি নাগরিক যাদের পাসপোর্ট হারিয়ে গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য বাংলাদেশে দূতাবাস বিশেষ ভ্রমণ পাস ইস্যু করবে। এর জন্য বিধি মোতাবেক থানার জিডির কপির প্রয়োজন হবে না।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। হোটেল পরিচালনার গাফিলতি ও নিরাপত্তার ত্রুটি খতিয়ে দেখে বুধবার (১৯ আগস্ট) গভীর রাতে এন্টালি এলাকা থেকে হোটেলটির লিজ-হোল্ডার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের স্বার্থে উল্টো দিকের ‘যাপন’ হোটেলের ম্যানেজারসহ আরও দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মূল অভিযুক্ত আবু জাফরকে ব্যাংকসাল আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ১২ দিনের ‘এসআইটি’ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এসআই







































