গণভোটে জনগণের অংশগ্রহণ ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে সারা দেশের মসজিদ, মন্দির ও গির্জাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে। এ লক্ষ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে কেন্দ্র করে বিস্তৃত প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব বলেন, গণভোটের গুরুত্ব ও জুলাই সনদের প্রয়োজনীয়তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে ইমামদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বৈঠকে মত দেওয়া হয়েছে।
শফিকুল আলম জানান, শুক্রবারের জুমার খুতবা কিংবা অন্যান্য ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে গণভোটের তাৎপর্য এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট কেন জরুরি—সে বিষয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রায় ৫০০ জন আলেমের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে এবং সেখান থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৭৭ হাজার মক্তব রয়েছে, যেখানে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষাদান করেন ইমামরাই। এসব মক্তব ও ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকেও গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির কাজে যুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের প্রায় চার লাখ মসজিদের ইমামদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়গুলোকেও এই প্রচারণার আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রেস সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, এ কার্যক্রমে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনায় ছিলেন আলোচিত ইসলামিক বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী ও শায়েখ আহমদুল্লাহ। বৈঠকে ধর্ম উপদেষ্টা, সচিব এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া গণভোট নিয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারাদেশে হাজার হাজার লিফলেট বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও গণভোটের বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। সরকারের লক্ষ্য—বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ যেন জানতে পারে কেন ‘হ্যাঁ’ ভোট গুরুত্বপূর্ণ এবং কেন এই গণভোট ভবিষ্যৎ শতাব্দীর দিকনির্দেশনা নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের সাক্ষরতার হার প্রায় ৮০ শতাংশ এবং ডিজিটাল মাধ্যমের বিস্তারের কারণে প্রত্যন্ত এলাকাতেও মানুষ ইউটিউব ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে তথ্য পাচ্ছে। ফলে গণভোট সংক্রান্ত বার্তাও দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে বলে সরকার আশাবাদী।
এম







































