ফাইল ছবি
তারেক রহমান (জন্ম: ২০ নভেম্বর ১৯৬৫) বাংলাদেশের এক পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাধারণত তিনি ‘তারেক জিয়া’ নামে বেশি পরিচিত, যা তার পিতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম থেকে এসেছে।
তারেকের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় অল্প বয়স থেকেই। ২০০০ সালের শুরুর দিকে তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপিতে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং সমর্থকদের মধ্যে নিজের পরিচিতি তৈরি করেন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় নির্বাচনী প্রচারণায় নেতৃত্ব দেন, যা তাকে দলের তরুণ কর্মীদের কাছে একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিতি দেয়।
তারেকের রাজনৈতিক কার্যক্রম শুধু নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ২০০২ সালের পর তিনি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশে ব্যাপক গণসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এই সময় তিনি যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন এবং দলের কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেন।
২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তারেক রহমান জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ সময় তার বক্তব্যে তিনি তার অগণতান্ত্রিক সরকারের হাতে গ্রেপ্তারের এবং নির্যাতনের বর্ণনা দেন।
তারেকের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিতর্ক ও অভিযোগও রয়েছে। দুর্নীতি, ঘুষগ্রহণ, অর্থ পাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং গ্রেনেড হামলার মতো অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়, যদিও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আদালত তাকে এসব মামলায় খালাস দেয়। বর্তমানে তারেকের বিরুদ্ধে কোনো বিচারাধীন মামলা নেই।
তারেক রহমানের শিক্ষাজীবন শুরু হয় ঢাকা শহরের বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে। তিনি সেখানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। ১৯৮৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন, তবে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে পড়াকালীন তিনি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ইতি ঘটিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রবেশ করেন। তিনি বস্ত্রশিল্প এবং নৌ-যোগাযোগ খাতে ব্যবসা শুরু করেন।
তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পর্যায় পর্যন্ত। তবে তার রাজনৈতিক, সামাজিক এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম তাকে শুধু শিক্ষাগত অর্জনের বাইরে একটি দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিতি দেয়।
তারেক রহমান ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি যুক্তরাজ্য থেকে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন, যা দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাসী জীবনের অবসান এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার সক্রিয় পুনরায় অংশগ্রহণের সূচনা।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন প্রমাণ করে, তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতার সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করে রাজনৈতিক দক্ষতা, সংগঠন দক্ষতা এবং দেশব্যাপী গণসংযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন।
এসএইচ







































