• ঢাকা
  • রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

বিমানবন্দরে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে চলার প্রস্ততি নিন


কেফায়েত শাকিল অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১০:১৪ এএম
বিমানবন্দরে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে চলার প্রস্ততি নিন

দুইদিন আগে একটি স্বনামধন্য এয়ারলাইন্স কোম্পানির একজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে এয়ারপোর্টের নানান ভোগান্তি প্রসঙ্গে গল্প হচ্ছিলো। তখন তিনি একমাস আগে তার ভ্রমণ ফেরত একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। জানান, মাস খানেক আগে তিনি বিদেশ থেকে ফিরে ইমিগ্রেশানে এসে দেখেন সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্তরা গল্প করছেন। অন্যদিকে, যাত্রীরা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। সে সময় তিনি গল্প করা ইমিগ্রেশন পুলিশকে ডেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জবাবে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই পুলিশ জানতে চান উনি জবাবদিহিতা করার কে?, উনার পরিচয় কি?

পাল্টা জবাবে সেই ভাই বলেন, ‘আমি এয়ারলাইন্স সেবার সঙ্গেই জড়িত। তাছাড়া, ইমিগ্রেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ কর্মকর্তা আমার স্কুলের বন্ধু।’ এই পরিচয় দেওয়ার পর আর কোনো কথা বলেননি ওই ইমিগ্রেশন অফিসার।

গল্পটা বলতে বলতে ওই ভাই বলছিলেন, আমাদের বিমানবন্দরে যথাযথ সেবা পেতে একজন যাত্রীর যাত্রী পরিচয়ের বাইরে কোনো প্রভাবশালী পরিচয় থাকতে হয়। নয়লে সে ভোগান্তির শিকার হলেও বলার কোনো উপায় নেই। অথচ অন্যান্য দেশে এয়ারপোর্টে যাত্রীদের সর্বোচ্চ সন্মান দেওয়া হয়, সর্বোচ্চ সেবার মানসিকতায় তারা গ্রহণ করে। আমাদের এই দুর্বলতার কারণেই আমরা বাহিরের ট্যুরিস্ট পাই না। দেশিয় যাত্রীরাও যথাযথ সেবা পায় না।

আল্লাহ আমাকে এখন পর্যন্ত ৪টি দেশে ভ্রমণের সুযোগ দিয়েছেন, এক দেশে একাধিকবারও গিয়েছি। সত্যি বলতে, বাংলাদেশের বিমানবন্দরের মতো এত অব্যবস্থাপনা ও অসহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব আর কোনো বিমানবন্দরে দেখিনি। বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে ভ্রমণ করেছি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মতো নিম্নমানের সেবা আর কোনো বিমানে পাইনি। সবচেয়ে বড় কথা, আমি সবসময় বলি- ঢাকা বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে ঢুকলেই আমার কাছে নিজেকে অপরাধী অপরাধী অপরাধী মনে হয়। কারণ দেশে নেমেই প্রথমে ইমিগ্রেশনে পুলিশের মুখোমুখি হতে হয়। আর পুলিশের চোখে সবাই অপরাধী, ক্রাইম হ্যান্ডেল করতে করতে এটা তাদের নেচার হয়ে যায়। ফলে পুলিশ যখন ইমিগ্রেশনের দায়িত্বে থাকেন স্বভাবগত কারণেই তার দ্বারা সেবার বিপরীতে জবাবদিহিতাই বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক।

আমার কথাগুলোর সঙ্গে সম্ভাবত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে একবারও বিদেশে যাতায়াত করে থাকলে আপনিও একমত হবেন। আমাদের প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হলে এবং বিদেশী ট্যুরিস্ট আকর্ষণ করতে হলে এই ব্যবস্থার দ্রুত পরিবর্তন খুবই জরুরি।

গতকাল বিমানবন্দরে ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় নিজেদের লাগেজ বুঝে না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন মদিনা থেকে আসা একটি বিমানের যাত্রীরা। শুধু লাগেজ বুঝে পাওয়ার জটিলতাই নয়, সেই সময় ট্রলি না পাওয়াসহ নানান হয়রানির অভিযোগ করেন তারা। তাও আবার সেই বিমানের যাত্রীদের মধ্যে বিরোধী দলের ৩৫ জন এমপিও ছিলেন। এ নিয়ে যাত্রীদের কয়েকটি ক্ষুব্ধ ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ, কিছুটা ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিতে দেখা গেছে সম্প্রতি জামায়াতে যোগ দেওয়া বিএনপির সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর  (অব) আখতারুজ্জামানকে। 

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের ক্ষোভ প্রকাশের এই ভাষাকে আমি কোনোভাবে সমর্থন করি না। উনি এটা আরেকটু মার্জিত ভাষায়ও করতে পারতেন। তবে এটাও বুঝি উনি শুধু নিজের জন্য নয়, সব যাত্রীদের ভোগান্তির বিবেচনায়ই ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাছাড়া যে দেশের জন্মে তার অবদান রয়েছে, সেই দেশের পরিচয় বহনকারী বিমানের এমন অব্যবস্থাপনা হয়তো তাকে বেশি ব্যাথিত করেছে বলে তিনি এতটা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। অন্যদিকে এয়ারপোর্টের ওই কর্মকর্তার বক্তব্যও যে খুব ভালো ছিল তাও কিন্ত না। এটাও তাকে ক্ষুব্ধ করার অন্যতম কারণ। তবু আমি বলবো আখতারুজ্জামানের ভাষাটা সংযত হওয়া উচিত ছিল।

তবে তার ক্ষোভ প্রকাশের বিষয়টাকে দেশের স্বার্থেই আমলে নেওয়া দরকার। বিমানের এই অবস্থার দ্রুত উন্নতি দরকার। নতুন সরকার অনেক বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। ট্রাফিকব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন করেছে সরকার। বিমানবন্দরটাকেও অগ্রাধিকার দিয়ে সেভাবে সংস্কার করা দরকার।

কিন্তু সরকার সেটা না করে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে আটক করেছে। তিনি যেহেতু কারো গায়ে হাত তুলেননি তাই তাকে এই মামলায় আদৌ আটকে রাখা যাবে কিনা আমার জানা নেই। তবে তার মতো একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং সাবেক এমপিকে আটকের মধ্যদিয়ে বিমানবন্দরের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাকে আজ প্রশ্রয় দেওয়া হলো। এরা এমনিতেই মানুষকে মানুষ মনে করতো না। এখনতো প্রবাসফেরতেদের দুই পয়সার মূল্যও দিবে না। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে দৃষ্টান্ত দেখিয়ে বলবে, ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধা বা এমপিকেই ছাড়িনি, তুমি কোন হনু?’

অতএব আজকের পর বিমানবন্দরে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে চলার প্রস্ততি নিন প্রবাসী ভায়েরা।

লেখক:
কেফায়েত শাকিল
মাইগ্রেশন বিষয়ক সাংবাদিক ও লেখক
[email protected]

/এম/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব ভাবনার প্রতিফলন। সোনালীনিউজ-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে লেখকের এই মতামতের অমিল থাকাটা স্বাভাবিক। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য সোনালীনিউজ কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না। এর দায় সম্পূর্ণই লেখকের।

Link copied!