ফাইল ছবি
জামায়াত এখন পরিশুদ্ধ বলেই মুক্তিযোদ্ধা ও বীরবিক্রমরা তাদের সঙ্গে জোটে গেছেন-এমন মন্তব্য করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম। তাঁর ভাষ্য, সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই রাজনৈতিক সমঝোতা।
সোমবার (৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর মগবাজারে এলডিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
অলি আহমদ বলেন, জামায়াত যদি পরিশুদ্ধ না হতো, তাহলে বীরবিক্রম ও মুক্তিযোদ্ধারা কীভাবে তাদের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়াতেন। তাঁর দাবি, যারা বাংলাদেশকে দ্বিতীয়বার স্বাধীন করেছে, যারা সবাইকে মুক্তভাবে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছে, সেই তরুণদের বড় একটি অংশ ছিল জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত। তারা দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে। আর তিনি নিজে প্রথমবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলেন। এখন সবাই একসঙ্গে হয়েছেন দেশের স্বার্থে।
এলডিপি সভাপতি বলেন, এলডিপি জামায়াতে যোগ দেয়নি, জামায়াতও এলডিপিতে যোগ দেয়নি। তাদের প্রতীক দাড়িপাল্লা নয়, এলডিপির প্রতীক ছাতা। মুক্তিযুদ্ধের শক্তি ও জুলাইয়ের শক্তি এখন একত্রিত হয়েছে। এই জোটের ভিত্তিতে আসন সমঝোতা হয়েছে। যে আসনে এলডিপি প্রার্থী দেবে, সেখানে জামায়াত প্রার্থী দেবে না। একইভাবে জামায়াত যেখানে প্রার্থী দেবে, সেখানে এলডিপি প্রার্থী দেবে না।
বাংলাদেশ কীভাবে চলবে, সেটি দেশের জনগণই ঠিক করবে-এ কথা পুনর্ব্যক্ত করে অলি আহমদ বলেন, ভারতের সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই। তবে দিল্লিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করার মতো বেইমানি ও মোনাফেকির রাজনীতিতে তারা যাবেন না।
তিনি বলেন, আমরা ভারতের দালাল হতে চাই না। যারা ভারতের দালালি করছে, তাদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। তাঁর অভিযোগ, অর্থ ও নারীর লোভে আকৃষ্ট হয়ে কেউ কেউ দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়েছে।
ভারত প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমরা মোদির গোলাম হিসেবে কাজ করব না, অমিত শাহর গোলাম হিসেবেও কাজ করব না। বাংলাদেশের জনগণই ঠিক করবে, বাংলাদেশ কীভাবে চলবে।
এর আগে গত রোববার লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি জামায়াত নেতৃত্বাধীন আট দলীয় জোটে যুক্ত হয়। এই অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জোটটি দশ দলীয় জোট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই জোট ও অলি আহমদের বক্তব্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এসএইচ







































