ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমার আগ মুহূর্তে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দুইটি নতুন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচনী জোট করেছে। জোটবদ্ধ দলগুলোকে ছাড় দিতে জামায়াত তাদের ‘গ্রিন আসনেও’ মনোনয়ন দাখিল না করতে প্রার্থীদের নির্দেশ দিয়েছে। মূলত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সঙ্গে সমঝোতার পর নবীন নেতাদের সুযোগ দিতে বেশ কয়েকজন জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
মনোনয়নপত্র জমার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এনসিপি প্রায় চার ডজন আসনে মনোনয়নপত্র দিয়েছে। দলটির শীর্ষ পাঁচ নেতার আসন ছাড়া বাকি সব আসনেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে জামায়াত। তবে এসব আসনের মধ্যে অন্তত ২০টিতে এনসিপি নেতাদের ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জোটভুক্ত জামায়াত প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বললে জানা গেছে, তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুটা ক্ষুব্ধ। দীর্ঘদিন কাজ করে জনসমর্থন তৈরি করা প্রার্থীরা এখন আসন ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের মতে, স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় ও দলের শীর্ষ নেতাদের বিচক্ষণতার প্রয়োজন।
জামায়াত ও এনসিপির পৃথক সূত্র জানিয়েছে, দলটি নবীন শক্তিকে কাছে টেনে সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে চাচ্ছে। ইসলামী দল হলেও জামায়াত যে আগের চেয়ে বেশি ‘মোডারেট’ সেই বার্তাও দিতে চাইছে। এছাড়া নিরপেক্ষ ভোটারদের জোটে আনতেও এই সমঝোতার গুরুত্ব রয়েছে।
জোটে জামায়াত ১৮০–১৮৫টি আসন রাখতে চাইছে। অন্যান্য দলকে দেওয়ার প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে: ইসলামী আন্দোলন ৪০টি, এনসিপি ২০–২২টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১১টি, খেলাফত মজলিস ও এবি পার্টি তিনটি করে, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি দুই করে।
এনসিপির আশা ৪০টি আসন। এর মধ্যে ৩০টির বিষয় মোটামুটি চূড়ান্ত, বাকি ১০টি আসন নিয়ে এখনও জোটের সঙ্গে আলোচনায় আছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
ঢাকা-১১ আসনে জামায়াতের মনোনীত আতিকুর রহমান, রংপুর-৪ আসনে জামায়াতের রংপুর মহানগর আমির এ টি এম আজম খান, ঢাকা-৮ আসনে জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াতের মহানগর আমির আব্দুল জব্বার-এই সকল হেভিওয়েট প্রার্থীরা এনসিপির প্রার্থীদের সুবিধার জন্য মনোনয়ন জমা দেননি।
এই ছাড়ের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক কৌশল ও জোটের বৃহত্তর স্বার্থ। হেভিওয়েট প্রার্থীরা নিশ্চিত করেছেন, দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ও জোটের স্বার্থেই তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. আইনুল ইসলাম মনে করেন, দেশের ভেতরে ও বাইরে সমর্থন অর্জনের জন্য জামায়াত গুরুত্বপূর্ণ আসন ছেড়ে দিচ্ছে। এছাড়া জুলাই আন্দোলনের স্পিরিট ধরে রাখতে ও ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তি হিসেবে নতুনদের সঙ্গে জোট করে বিশেষ সুবিধা পেতে চাইছে। কতটা কার্যকর হবে এই জোট, তা দেখার জন্য আগামী নির্বাচনের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।
এসএইচ







































