• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

বিদ্রোহীদের আটকাতে পারছে না বিএনপি, অস্বস্তিতে মিত্ররা


নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
বিদ্রোহীদের আটকাতে পারছে না বিএনপি, অস্বস্তিতে মিত্ররা

ফাইল ছবি

আসন ভাগাভাগির সমঝোতা থাকলেও মিত্র দলগুলোর জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতে বিএনপির কিছু নেতার প্রার্থী হওয়ায় জোট শরিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের সতর্কতা ও বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পরও এসব প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ানোয় জোট রাজনীতি নতুন সংকটে পড়েছে।

জোটের এক ডজনের বেশি শীর্ষ নেতা জানান, বিএনপির বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কারণে সমঝোতা কার্যত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সহযোগিতা পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। এতে ভোটার বিভ্রান্তি বাড়ছে এবং মাঠের সাংগঠনিক কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়ছে।

দলীয় সূত্র জানায়, শরিকদের জন্য বিএনপি মোট ১৪টি আসন ছেড়েছে। এর মধ্যে অন্তত ছয়টি আসনে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতারা প্রার্থী হলেও কয়েকটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা থেকেই গেছেন। ফলে জোটপ্রার্থীদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এখন অন্য দল নয়, বরং বিএনপির নিজস্ব নেতারাই।

ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকের বিরুদ্ধে বিএনপির ১ জন বহিষ্কৃত নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি টানাপোড়েন বগুড়া-২ আসনে। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না অভিযোগ করেছেন, মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় তাকে সংগঠিতভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। পরে যাঁরা বাধা দিয়েছিলেন, তাঁরাই বিএনপির টিকিট পেয়েছেন বলে জানান তিনি। একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহ-৪ আসনেও। সেখানে বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খান বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের কাছ থেকে হুমকির অভিযোগ তুলেছেন, পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে।

তবে নীলফামারী-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬, হবিগঞ্জ-১, কুমিল্লা-৭, কিশোরগঞ্জ-৫, লক্ষ্মীপুর-১ এসব আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও মাঠপর্যায়ে নিষ্ক্রিয়তা ও অসহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। 

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানিয়েছেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ প্রার্থী থাকলে তাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হতে পারে। ইতোমধ্যে শরিকদের আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় অন্তত নয়জন বিএনপি নেতা বহিষ্কৃত হয়েছেন।

তবু মাঠপর্যায়ে বিদ্রোহ পুরোপুরি থামেনি। এই পরিস্থিতিতে জোট নেতারা সরাসরি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, তৃণমূল পর্যায়ের এই বিদ্রোহ জোটের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করতে পারে এবং একাধিক আসনের ফলাফল প্রভাবিত হতে পারে।

একদিকে নির্বাচনমুখী জোটের ঐক্যের প্রয়োজন, অন্যদিকে দলের ভেতরের অনুগত-বিদ্রোহী টানাপোড়েন-এই দ্বন্দ্বে বিএনপির রাজনীতি এখন কঠিন এক পরীক্ষার মুখে। আর সেই পরীক্ষার ফলের দিকেই উদ্বিগ্ন চোখে তাকিয়ে আছে মিত্র দলগুলো।

পেঅফ

Wordbridge School
Link copied!