ফাইল ছবি
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সরকার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম এবং গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিকে অস্ত্রধারী দেহরক্ষী বা গানম্যান দিয়েছে। একইসঙ্গে মেহেরপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাসুদ অরুণও পেয়েছেন গানম্যান।
রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) এ তিনজনকে গানম্যান দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের দেহরক্ষী পাওয়ার আবেদন নাকচ করে দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এছাড়া স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইনও (হিরু) গানম্যান পাননি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ঢালাওভাবে অস্ত্রধারী দেহরক্ষী দেওয়া হবে না। নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর আরও কয়েকজন রাজনীতিবিদকে দেহরক্ষী দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হবে। এছাড়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের আবেদনের বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও অলি আহমদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। তাই তাদেরকে দেহরক্ষী দেওয়া হয়নি। পুলিশের বিশেষ ব্রাঞ্চ (এসবি) থেকেও তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে বলে মতামত দেওয়া হয়নি। শাখাওয়াত হোসাইনেরও নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বলে মনে করা হচ্ছে।
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের জন্য সার্বক্ষণিক দেহরক্ষী ও বাসভবনের নিরাপত্তার জন্য পোশাকধারী সশস্ত্র পুলিশ সদস্য চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয় ১৭ ডিসেম্বর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
নিরাপত্তা চাওয়া রাজনীতিবিদদের মধ্যে আরও রয়েছেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সেলিমুজ্জামান সেলিম ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনের এস এম জিলানী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুস আহম্মেদ শেখ প্রমুখ। ঢাকা-৪ আসনের (যাত্রাবাড়ী) বিএনপি মনোনীত সম্ভাব্য প্রার্থী তানভীর আহমেদ (রবিন) ও পাবনা-৩ আসনের হাসান জাফির তুহিন চেয়েছেন আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স।
সরকারের কাছে অস্ত্রধারী দেহরক্ষী চেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে অব্যাহতি পাওয়া নেতা মুনতাসির মাহমুদ। এনসিপির উত্তরাঞ্চলের কয়েকজন নেতাও একই আবেদন করেছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ব্যক্তিগত অস্ত্র বা দেহরক্ষী দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আসলেই নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার মতামত নেওয়ার পর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা-২০২৫’ জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পিএস







































