ফাইল ছবি
দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা দখল, চাঁদাবাজি, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ক্ষমতায় থাকা বিএনপির হাইকমান্ড। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সত্যতা পাওয়ায় কেন্দ্র থেকে একের পর এক শোকজ, কমিটি বিলুপ্তি ও বহিষ্কারের মতো কঠোর সাংগঠনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিএনপি প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দলীয় পরিচয়ে সংঘটিত অপরাধের বিরুদ্ধে এখন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। হাইকমান্ড মনে করে, এ ধরনের অপরাধ শুধু সাংগঠনিক সমস্যা নয়, এর সঙ্গে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি এবং জন-আস্থার বিষয় যুক্ত।
সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিসহ যুবদল ও ছাত্রদলের একাধিক শাখা বিলুপ্ত এবং ১৪ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। একই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম মহানগর কৃষক দলের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে।
এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে হাইকমান্ড বার্তা দিয়েছে যে, স্থান ও পদপদবি যা-ই হোক না কেন, অপকর্ম বরদাশত করা হবে না। তৃণমূলের নেতাদের ওপর চোখ রাখার পাশাপাশি কেন্দ্র থেকে সরাসরি হস্তক্ষেপের পথও খোলা রাখা হচ্ছে, যাতে স্থানীয় নেতৃত্ব কোনো অভিযোগ ধামাচাপা দিতে না পারে।
তবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে হাইকমান্ডের এই কড়া অবস্থান তৃণমূলে বাস্তবায়ন করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ স্থানীয় পর্যায়ের নিজস্ব বলয় ও পক্ষ-বিপক্ষের জটিলতার পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে অসত্য অভিযোগ তোলার ঝুঁকিও রয়েছে। ফলে কেবল শাস্তিমূলক ব্যবস্থাই যথেষ্ট নয়, নিরপেক্ষ তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের পাশাপাশি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দলের নাম ভাঙিয়ে সুবিধা নেওয়া অপশক্তির বিরুদ্ধে মাঠ পর্যায়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়াকেই মূল পরীক্ষা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
হাইকমান্ডের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে জয়নুল আবদিন ফারুক ও সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ নেতারা জানান, দলে ঘাপটি মেরে থাকা বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই 'অ্যাকশন' অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে সিলেট, বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলার তৃণমূল নেতা-কর্মীরা বলছেন, সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা ও অপরাধীদের দমন করতে এই জিরো টলারেন্স নীতি মাঠ পর্যায়েও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা প্রয়োজন। যুবদল, ছাত্রদল ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অপকর্মের প্রমাণ মিললে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এসএইচ







































