• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৩, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩০

ঋণ নিয়ে দুবাই গিয়ে আগুনে নিভল লক্ষ্মীপুরের যুবকের প্রাণ 


লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৩, ০৭:২৬ পিএম
ঋণ নিয়ে দুবাই গিয়ে আগুনে নিভল লক্ষ্মীপুরের যুবকের প্রাণ 

লক্ষ্মীপুর: দুবাইয়ের শারজাহ এলাকায় অগ্নিদগ্ধের ঘটনায় ২৩ দিন পর বাংলাদেশী যুবক মো. ইউছুফ হোসেনের (৩৯) মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাঁর ভাই দুবাই প্রবাসী দিদার হোসেন সোনালীনিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

এরআগে শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে সেখানকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসছে। তাঁর মা মাহফুজা খাতুন ও স্ত্রী আছমা বেগম কান্নায় মূর্ছা যাচ্ছেন।  

ইউছুফ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার লাহারকান্দি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লাহারকান্দি গ্রামের শামছুদ্দিন বেপারী বাড়ির মো. আবদুল্যাহর সেজো ছেলে। ৯ আগস্ট দুবাইয়ের শারজাহ এলাকার একটি কারখানায় কাজ করার সময় অগ্নিকাণ্ডে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। এরপর থেকে তিনি শারজাহ এলাকায় কুয়েতি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। 

ইউছুফের মা মাহফুজা খাতুন, ভাই দিদার হোসেন ও স্ত্রী আছমা বেগম জানায়, ২ বছর চার মাস আগে ৩ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ইউসুফ দুবাই যান। ভিজিট ভিসায় তিনি সেখানে যান। কিন্তু আকামা না থাকায় তিনি বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। বাড়িতেও ঠিকমতো টাকাপয়সা পাঠাতে পারতো না। দুবাইয়ের শারজাহ এলাকার একটি কারখানায় ৯ আগস্ট কাজ করার সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে তিনি সেখানে অগ্নিদগ্ধ হন। আগুনে তার শরীরের অধিকাংশ পুড়ে যায়। এ ঘটনায় তার সঙ্গে আরও কয়েকজন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে সেখানকার কুয়েতি হাসপাতালে ২৩ দিন তিনি নিবীড় পর্যবেক্ষণে (আইসিইউ) ছিলেন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। 

ইউছুফের ভাই দিদার হোসেন সোনালীনিউজকে বলেন, ইউছুফের মরদেহ দেশে আনার জন্য চেষ্টা করছি। আকামা না থাকায় একটু সময় লাগতে পারে। 

ইউছুফের মা মাহফুজা বেগম সোনালীনিউজকে বলেন, ৩ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ইউছুফ বিদেশে গেছে। এখনো সবগুলো টাকা পরিশোধ করতে পারেনি। এরমধ্যেই আমার ছেলেটা আগুনে পুড়ে মারা গেল। সংসারে তার স্ত্রী, দুই ছেলে ইয়াসিন আরাফাত (১১) ও তাহসিন (৫) রয়েছে। আমার নাতিগুলো এতিম হয়ে গেলে। শেষবারের মতো আমরা ইউছুফের মুখটা দেখতে চাই। তাকে ফিরিয়ে আনতে আমাদের দেশের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।

স্ত্রী আছমা বেগম সোনালীনিউজকে বলেন, অভাব গোছাতে ইউছুফ আমাদের ছেড়ে বিদেশ গেল। সেখানে তিনি প্রকাশ্যে কাজ করতে পারতো না। লুকিয়ে কাজ করতে হতো। অভাব গোছাতে গিয়ে তিনি এখন আমাদেরকে অভাবী করে গেল। তাঁর অভাব কিভাবে গোছাবো আমরা? 

লাহারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) আলমগীর হোসেন সোনালীনিউজকে জানান, ইউছুফের মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। তার মরদেহ দেশে আনতে পরিষদের পক্ষ থেকে সকল ধরণের সহযোগীতা করা হবে। 

সোনালীনিউজ/আইএ

Wordbridge School
Link copied!