• ঢাকা
  • সোমবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২১, ৫ মাঘ ১৪২৭
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য: কঠোর অবস্থানে আ.লীগ, কৌশলী বিএনপি

হঠাৎ করেই উত্তপ্ত দেশের রাজনীতির মাঠ


নিজস্ব প্রতিনিধি ডিসেম্বর ২, ২০২০, ০৫:১৪ পিএম
হঠাৎ করেই উত্তপ্ত দেশের রাজনীতির মাঠ

ফাইল ছবি

ঢাকা : হঠাৎ করেই উত্তপ্ত দেশের রাজনীতির মাঠ। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজনীতির মাঠ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বলছে, কোন গোষ্ঠী বা ব্যক্তির হুংকারে ভীত নয় সরকার। আর বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি বলছে, নানা সময়ে সরকারের আস্কারাতেই হেফাজত আজ আপত্তি তোলার সাহস করছে। 

এদিকে, কৌশলী বিএনপি এনিয়ে কোন মন্তব্য না করে বলছে, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি আওয়ামী লীগে পুরনো অভ্যাস।

ভাস্কর্যের আশ্চর্যে নিরুত্তাপ রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে বেশ। পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি আর হুংকারে ভাসছে গোটা দেশ। সব শেষ একটু কৌশলী হেফাজত বলছে, বঙ্গবন্ধু নয় বরং তারা ভাস্কর্য বিরোধী। একই সাথে ভাস্কর্য আর মূর্তিতে কোনো পার্থক্য দেখেন না তারা। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। যদিও ইসলামী দলগুলোর এ ধরনের তৎপরতা ভালোভাবে নিচ্ছে না ক্ষমতাসীনরা। 

তাদের এই তৎপরতা বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। আপাতত হেফাজতে ইসলামসহ ইসলামী সংগঠনগুলোর কর্মকা পর্যবেক্ষণ করছে দলটি। সঙ্ঘাত এড়িয়ে নমনীয় আচরণের মাধ্যমে ভাস্কর্য নির্মাণের বিষয়টি সমাধান হলে কঠোরতা থেকে সরে আসবে সরকার। অন্যথায় কঠিন পদক্ষেপ নেয়ার চিন্তাভাবনাও রয়েছে সরকারের। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে আলাপকালে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইসলামী দলগুলো বলছে, ভাস্কর্য ও মূর্তির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে কোনো ভাস্কর্য নির্মাণ হতে পারে না। এটি কুরআন ও সুন্নাহ-বিরোধী। শুধু বঙ্গবন্ধু নয়, সব প্রাণীর ভাস্কর্য বা মূর্তি তৈরির বিপক্ষে মত তাদের। আর আওয়ামী লীগ বলছে, ভাস্কর্য ও মূর্তির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ভাস্কর্য হচ্ছে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও উজ্জ্বল স্মৃতির প্রতীক। ভাস্কর্য নির্মাণে শোভা বর্ধন পায়। বঙ্গবন্ধু মহান স্বাধীনতার স্থপতি। তার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ভাস্কর্য নির্মাণ করা হচ্ছে। সৌদি আরব, পাকিস্তানসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভাস্কর্য রয়েছে। সেখানে কেউ বিরোধিতা করে না।

সম্প্রতি স্থানীয় আওয়ামী লীগ রাজধানীর ধোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করতে গেলে সেখানকার আলেম-ওলামাদের বাধার মুখে পড়ে। বিশেষ করে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের তীব্র বিরোধিতা ভালোভাবে নিচ্ছে না ক্ষমতাসীনরা। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিষয়টি স্থানীয় ইস্যু হলেও এখন জাতীয় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে মামুনুল হক চট্টগ্রামে মাহফিল করতে গেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সরকারি দলের সহযোগী সংগঠনের বাধার সম্মুখীন হন। নড়াইলের মাহফিলে তিনি যেতে পারেননি। 

ঢাকা-৫ ও ঢাকা-৪ আসনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সক্রিয় রয়েছেন। ওই এলাকার নেতাকর্মীরা প্রায়ই মানববন্ধন ও সভা-সমাবেশ অব্যাহত রেখেছেন। গতকালও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে আওয়ামী ওলামা লীগ। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ বিবৃতি দিয়ে ইতোমধ্যে কঠোর কর্মসূচির হুমকি দিয়ে রেখেছে।

এ বিষয়ে ঢাকা-৫ আসনের এমপি কাজী মনিরুল ইসলাম মনু বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি। কিছু দিন আগে সেই মহান নেতার স্মৃতির সম্মানার্থে আমরা একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করার উদ্যাগ নিয়েছিলাম। ওই স্থানটি আমার আসনের দক্ষিণের শেষ সীমানায় পড়েছে। তখন সেখানকার কয়েকজন আলেম-ওলামা বাধা দিলে আমরা সরে আসি। 

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে ফোন দিয়ে বলেছেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে। কোনো ধরনের সঙ্ঘাতে আমরা যেন না যাই। আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।

মনিরুল ইসলাম মনু বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতাকারী আলেম-ওলামাদের সাথে আমরা কয়েকবার বসেছি। তাদের চেষ্টা করছি কথা শোনাবার; কিন্তু তারা এখনো বিরোধিতা করছে। এখনো কোনো সমাধান হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, ভাস্কর্য হচ্ছে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও উজ্জ্বল স্মৃতির প্রতীক। কিন্তু ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে সারা দেশে কিছু আলেম-ওলামা মাঠ উত্তপ্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করছে। কোনো শক্তি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ বন্ধ রাখতে পারবে না। 

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য মুসলিম দেশে অনেক ভাস্কর্য আছে। সেখানে ভাস্কর্য নিয়ে কেউ কথা বলে না। এমনকি মক্কা নগরীর মানুষই ভাস্কর্য নিয়ে কথা বলে না। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য প্রতিষ্ঠিত হবেই। কোনো শক্তির ক্ষমতা নেই এটা ঠেকানোর।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন মুসলিম দেশে ভাস্কর্য রয়েছে। সেখানে কেউ বিরোধিতা করে না। কিন্তু এখানে কিছু আলেম-ওলামা বিরোধিতা করছে। তার কারণ হলো তারা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না। 

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মহান স্বাধীনতার স্থপতি। এটা নিয়ে কোনো আপস চলে না। তিনি সবার ঊর্ধ্বে। অতএব বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করতে না দেয়ার অর্থ হলো তাদের ভিন্ন মতলব রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে এস এম কামাল বলেন, আমরা কোনো সঙ্ঘাতে যেতে চাই না। এটা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করা হবে।

এদিকে, নানা সময়ে সরকারের আস্কারাতেই হেফাজত আজ আপত্তি তোলার সাহস করছে জানিয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, এই সকল শক্তিকে যদি আস্কারা দেয় হয়, তাদের সাথে কৌশলের নামে দাবি গুলো মেনে নেওয়া কারণে তার এই সাহস পেয়েছে। 

অপরদিকে, ভাস্কর্য ইস্যুতে কৌশলী বিএনপি সরাসরি কোন মন্তব্য না করলেও, তাদের অভিযোগ ধর্ম নিয়ে রাজনীতি আওয়ামী লীগ সরকারের ইতিহাস পুরনো। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি আওয়ামী লীগ সরকারের ইতিহাস পুরনো। আওয়ামী লীগেই খেলাফতের সাথে চুক্তি সই করেছে। 

সোনালীনিউজ/এমএএইচ