• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১, ৪ কার্তিক ১৪২৮

বিয়ে করছেন র‌্যাবের গুলিতে পা হারানো লিমন  


ঝালকাঠি প্রতিনিধি     সেপ্টেম্বর ৩, ২০২১, ০৯:০৪ পিএম
বিয়ে করছেন র‌্যাবের গুলিতে পা হারানো লিমন  

ঝালকাঠি : ১০ বছর আগে র‌্যাবের গুলিতে পা হারিয়েছিলেন লিমন হোসেন। তখন তার বয়স ছিল ১৬। সে বছর এইচএসসি পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল তার। ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচিত হয়, প্রশ্নবিদ্ধ হয় ‌র‌্যাবের অভিযান।

ঝালকাঠির সাতুরিয়া গ্রামের পা হারানো সেই কিশোর এখন সাভার গণবিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের সহকারী প্রভাষক। বিয়ে করে এখন তিনি সংসার জীবন শুরু করতে যাচ্ছেন। কনে যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার নওপাড়া এলাকার রাবেয়া বসরী। যশোরে কনে বাড়িতেই শুক্রবার তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান।

লিমন হোসেন জানান, পরিবারের ইচ্ছায় বাবা-মায়ের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করে এবার জীবনে আরেকধাপ এগিয়ে যেতে চান তিনি। তার গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হয়ে গেছে বৃহস্পতিবার। তার হবু স্ত্রী রাবেয়ার জানান লিমননিজের সাথে যুদ্ধ করে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন, দাম্পত্য জীবনেও তিনি দায়িত্বশীল হবেন এটা বুঝেই আমি এ বিয়েতে রাজী হয়েছি।

প্রসংগত, ২০১১ সালের ২৩ মার্চ বিকেলে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নে বাড়ির পাশের একটি বাগানে নিয়ে লিমনের পায়ে গুলি করেন র‌্যাব সদস্যরা। এরপর লিমনসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাঁধা ও অস্ত্র আইনে দুইটি মামলা করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লিমনের গুলিবিদ্ধ পা কেটে ফেলতে হয় ঘটনার তিন দিন পর। সে বছরই লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম ঝালকাঠি ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে র‌্যাবের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।

র‌্যাবে মামলা যখন চলে, তখন ঝালকাঠির কারা হাসপাতালে থাকা অবস্থায় পড়াশোনা চালিয়ে যান লিমন। জামিনে মুক্ত হয়ে ২০১৩ সালে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কাঠালিয়া পিজিএস বহুমুখী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন লিমন। পরের বছর মামলা দুটি থেকে লিমনকে বাদ দেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে, লিমনের মায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ১০ বছরেও জমা দেয়নি তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই।

সাভার গণবিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে এল এল বি ডিগ্রি নিয়ে আইনি সহায়তা প্রদানকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টে (বি.এল.এ.এস.টি) চাকরিও করেন তিনি। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম ডিগ্রি নিয়ে ২০২০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সাভার গণবিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে শিক্ষা সহকারী পদে যোগ দেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সহকারী প্রভাষক হিসেবে পদোন্নতি হয় লিমনের।

পা হারানোর সেই দুর্বিষহ দিন পেরিয়ে ছেলের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার যুদ্ধে গর্বিত লিমনের বাবা-মা। ছেলের বিয়ে নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত তারা।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

Haque Milk Chocolate Digestive Biscuit
Wordbridge School
Sonali IT Pharmacy Managment System