• ঢাকা
  • সোমবার, ২৩ মে, ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

উত্তরা গণভবনে মন্ত্রিপরিষদ সভার আয়োজন চায় জেলা প্রশাসন


নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারি ৯, ২০২২, ০৯:৪২ পিএম
উত্তরা গণভবনে মন্ত্রিপরিষদ সভার আয়োজন চায় জেলা প্রশাসন

নাটোর: বাংলাদেশ স্বাধীন হলে ১৯৭২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উত্তরাঞ্চল ভ্রমণে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে দিঘাপতিয়া রাজবাড়ীর নাম পরিবর্তন করে উত্তরা গণভবন হিসেবে নামকরণ করেন। উত্তরা গণভবন নামকরণের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামি ৯ ফেব্রুয়ারি উত্তরা গণভবনে একটি মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক আয়োজনের প্রত্যাশা করছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তাদের এই প্রত্যাশা পূরণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পত্র পাঠিয়েছেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে লেখা চিঠিতে তিনি বলেন, রাজশাহী বিভাগের নাটোর জেলার উত্তরা গণভবন আঠারো শতকে দিঘাপতিয়া মহারাজাদের বাসস্থান হিসেবে নির্মিত হয়। দিঘাপতিয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা দয়ারাম রায় ১৭৩৪ সালে প্রায় ৪৩ একর জমির উপর দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৯৭ সালের ১২ জুন ভূমিকম্পে রাজপ্রাসাদটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে রাজবংশের ষষ্ঠ রাজা প্রমোদনাথ রায় সম্পূর্ণ প্রসাদ কমপ্লেক্সটি পুন:নির্মাণ করেন। সে সময় চারিদিকে সীমানা প্রাচীর দিয়ে বেষ্টিত সাড়ে ৪১ একর জমির উপর রাজবাড়ির ভিতরে বিশেষ কারুকার্য খচিত মূল ভবনসহ ছোটবড় মোট ১২টি ভবন নির্মিত হয়।

দিঘাপতিয়ার রাজা ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যান। পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালের ২৪ জুলাই দিঘাপতিয়া রাজবাড়িকে গভর্নর হাউজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হলে ১৯৭২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উত্তরাঞ্চল ভ্রমণে এসে অনুষ্ঠানিকভাবে দিঘাপতিয়া রাজবাড়ির নাম পরিবর্তন করে “উত্তরা গণভবন” হিসেবে নামকরণ করেন। 

তিনি একই তারিখে এই ভবনের মূল প্রাসাদের ভিতরে মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক করেন। সেই থেকে ভবনটি ‘উত্তরা গণভবন' হিসেবে দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর স্মৃতিবিজড়িত দিঘাপতিয়া রাজবাড়ীকে 'উত্তরা গণভবন’ হিসেবে ঘোষণা করার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২ উত্তরা গণভবনে মন্ত্রিপরিষদের একটি বৈঠক আয়োজনের জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও জনপ্রতিনিধিগণের প্রত্যাশা রয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, নাটোর একটি প্রস্তাব প্রেরণ করেছেন।

এমতাবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত উত্তরা গণভবন নাটোরে মন্ত্রিপরিষদের একটি বৈঠক আয়োজনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হলো।

এবিষয়ে প্রাক্তন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও বর্তমানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, আমি পদোন্নতি পাওয়ার কিছুদিন আগে এমন একটি পত্র দিয়েছিলাম। আমি নাটোরে যখন গিয়েছি তখন সেখানকার জনপ্রতিনিধিরা উত্তরা গণভবন নামকরণের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৯ ফেব্রুয়ারী উত্তরা গণভবনে একটি মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক আয়োজনের প্রত্যাশা করেছে। এবিষয়ে এখন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সিদ্ধান্ত নিবেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নাটোরের ওই রাজবাড়ির নাম রাখেন ‘উত্তরা গণভবন’। তার মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক হয় সেখানে। পরবর্তীতে অন্যান্য সরকারের আমলেও সেখানে বৈঠক হয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান তার শাসনামলে ১৯৮০ সালের ১৭ নভেম্বর উত্তরা গণভবনে একবার মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের মন্ত্রিসভাও উত্তরা গণভবনে বৈঠক করেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীসভাও একটি বৈঠক করে।

সোনালীনিউজ/আইএ

Wordbridge School
Sonali IT Pharmacy Managment System