• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

পারিবারিক বিরোধে লাশ আটকে রাখার ৩০ ঘণ্টা পর বাবার দাফন


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি  ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০১:২৯ পিএম
পারিবারিক বিরোধে লাশ আটকে রাখার ৩০ ঘণ্টা পর বাবার দাফন

ছবি : প্রতিনিধি

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবার মরদেহ আটকে রাখার প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর দাফন হয়েছে। স্ট্যাম্পে লিখিত সমঝোতা ও উভয় পক্ষের স্বাক্ষরের পর বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।

উপজেলার নাগেশ্বরী পৌরসভা এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবার লাশ বাড়ির আঙিনায় রেখে দাফন বিলম্বিত করার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের পয়ড়াডাঙ্গা বাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার বাসিন্দা আজিজার রহমান (৭৫) বার্ধক্যজনিত কারণে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ইন্তেকাল করেন। পরদিন বুধবার সকাল ১১টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে এলাকায় মাইকিং করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজিজার রহমানের প্রথম স্ত্রী জয়গুনের ঘরে এক ছেলে মনভোলা ওরফে আব্দুল হাকিম (৫৫) এবং তিন মেয়ে জোসনা, ময়না ও কাছুয়া রয়েছেন। প্রায় ৩০ বছর আগে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু হলে তিনি রহিমাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে এক ছেলে টাইগার (৩৩) ও এক মেয়ে আকলিমা (৩০) জন্মগ্রহণ করেন।

অভিযোগ রয়েছে, জীবদ্দশায় আজিজার রহমান তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের নামে লিখে দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এলাকাবাসী জানাজায় অংশ নিতে এলে প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা দাফনে আপত্তি জানান। তাদের দাবি, বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি সমানভাবে বণ্টন এবং প্রয়োজনীয় দলিল সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় তারা জানাজা ও দাফন করতে দেবেন না।

সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও কোনো সমাধান না হওয়ায় বুধবার রাত ১১ টার পর লাশ দাফন করা হয়। 

প্রতিবেশী আমিনুর রহমান, আব্দুল আলী ও আব্দুল মালেক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক ঘটনা। পারিবারিক বিষয় থাকলেও মৃত ব্যক্তির সম্মান রক্ষা করা সবার আগে প্রয়োজন।

পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, দাফন সম্পন্ন করার পর আইনি বা সামাজিকভাবে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করা উচিত ছিল। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পিএস

Wordbridge School
Link copied!