ছবি প্রতিনিধি
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহে প্রকৃতি যখন রুক্ষ হয়ে ওঠে, ঠিক তখনই যেন এক ঝলক প্রশান্তি নিয়ে হাজির হয় রক্তিম কৃষ্ণচূড়া। এই ফুলের অপরূপ দৃশ্য যে কারও চোখে ও মনে এনে দেয় শিল্পের দ্যোতনা।
সরেজমিনে ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, কৃষ্ণচূড়ার গাছে থোকায় থোকায় ফুল ফুটেছে। সবুজের বুকে লালের রাজত্ব যেন ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, ময়ূর তার রাঙা পেখম মেলে ধরেছে প্রকৃতির মাঝে। ফরিদপুর-খুলনা মহাসড়কের মাজকান্দি-মধুখালি সড়ক, বোয়ালমারী উপজেলার শাহ জাফর কলেজসহ বিভিন্ন বসতবাড়ির পাশে কৃষ্ণচূড়া ফুলের সমারোহ চোখে পড়ে। ফুলে ভরা গাছের ডালগুলো নুয়ে পড়েছে, যা তৈরি করেছে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। পথচারীরাও থেমে উপভোগ করছেন এই সৌন্দর্য।
কৃষ্ণচূড়ার আদি নিবাস পূর্ব আফ্রিকার মাদাগাস্কার। বিদেশি এই বৃক্ষ এখন ধীরে ধীরে বাঙালির ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে। অনেকে মনে করেন, শ্রীকৃষ্ণের নাম থেকেই এর নামকরণ হয়েছে। সবুজের বুক চিরে বের হয়ে আসা উজ্জ্বল লাল ফুল এতটাই মোহনীয় যে, পথচারীদেরও থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করে।
প্রকৃতির শোভা বর্ধনকারী এই বৃক্ষ সাধারণত খুব বেশি উঁচু হয় না। সর্বোচ্চ ১২ মিটার পর্যন্ত বাড়লেও এর শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত হয়ে ছায়া দেয় বৃহৎ এলাকাজুড়ে। বাংলাদেশে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই ফুল ফোটে এবং পুরো সময়জুড়েই প্রকৃতিকে রাঙিয়ে রাখে।
ফরিদপুরের বৃক্ষপ্রেমী সুমন রাফি জানান, সাধারণত মার্চের শেষ দিকে কৃষ্ণচূড়া ফোটা শুরু হয় এবং জুলাই পর্যন্ত থাকে। এই সময় প্রকৃতিতে এক ধরনের উচ্ছ্বাস ফিরে আসে। কবি-সাহিত্যিকদের লেখায়ও কৃষ্ণচূড়ার উপস্থিতি বারবার উঠে এসেছে, যা এর সৌন্দর্যেরই প্রতিফলন।
স্থানীয় শিক্ষার্থী সন্দীপন চক্রবর্ত্তী বলেন, এ সময় গ্রামাঞ্চলে কৃষ্ণচূড়ার লাল আভা প্রকৃতিকে নতুন রূপ দেয়। এই বৃক্ষ শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, গ্রীষ্মের খরতাপে ছায়াও দেয় এবং এর কিছু ভেষজ গুণও রয়েছে।
এসএইচ







































