• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

মূল্যস্ফীতির চাপ থাকায় নীতি সুদহার থাকছে অপরিবর্তিত


নিজস্ব প্রতিবেদক সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
মূল্যস্ফীতির চাপ থাকায় নীতি সুদহার থাকছে অপরিবর্তিত

ছবি : প্রতিনিধি

ঢাকা: মূল্যস্ফীতি কমলেও এর অন্তর্নিহিত ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। এ কারণে অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৬ প্রান্তিকের মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে নতুন প্রান্তিকের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান। 

তিনি জানান, গত ২৩ সেপ্টেম্বর মুদ্রানীতি কমিটির সভায় নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুনে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। আগস্টে তা কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৭ দশমিক ২ শতাংশে এলেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি এখনো ৯ দশমিক ৩২ শতাংশে রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বৈশ্বিক জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা, দেশে জ্বালানির নিয়ন্ত্রিত দামের সমন্বয় এবং নতুন বেতন কাঠামোর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। এ অবস্থায় আগেভাগে মুদ্রানীতি শিথিল করলে মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা বেড়ে যেতে পারে।

এদিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এখনো চাপ রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে। একই সময়ে শিল্প উৎপাদনও সংকুচিত হয়েছে। উচ্চ সুদ, জ্বালানি ঘাটতি, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং দেশি-বিদেশি চাহিদার অনিশ্চয়তাকে প্রবৃদ্ধির বড় বাধা হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বন্ধ কারখানা চালু করাসহ বিভিন্ন খাতে মোট ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর জন্য রয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা।

তবে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি এখনো দুর্বল। আগস্টে এ খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। একই সঙ্গে জুনে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের অনুপাত বেড়ে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরানোই এখন মুদ্রানীতির বড় চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতি বিবেচনায় তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এএইচ/পিএস

Link copied!