ফাইল ছবি
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও যোগদানের মুখ থেকে বাদ পড়েছেন প্রায় দেড় হাজার প্রার্থী। মাঠপর্যায়ে পুলিশি তদন্ত শেষের পর জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ে আটকে গেছে তাঁদের নিয়োগপত্র। দীর্ঘ সাত মাসেরও বেশি সময় অপেক্ষা করানোর পর ফল প্রকাশের শেষ ধাপে এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে এভাবে বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর স্বপ্নভঙ্গ হওয়ায় দেশজুড়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
নিয়োগের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ ও ১২ নভেম্বর দুই ধাপে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এরপর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জেলাভিত্তিক ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়। ফল প্রকাশের পর প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ডোপ টেস্ট ও শিক্ষাগত সনদের যাচাই পর্ব পার হলেও আটকে যায় যোগদান। পুলিশ ভেরিফিকেশন ও এনএসআই তদন্ত শেষে সাত মাস পর গত বৃহস্পতিবার থেকে অবশেষে নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হলেও দেখা যায় হাজারেরও বেশি নির্বাচিত প্রার্থী শেষ মুহূর্তের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।
চূড়ান্ত তালিকা থেকে প্রার্থীরা বাদ পড়ায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনগুলো। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক অভিযোগে বলেন, ভেরিফিকেশনের নামে অন্তত এক হাজার মেধাবী প্রার্থীর সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। অধিকাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো থানা বা আদালতে সুনির্দিষ্ট মামলা না থাকা সত্ত্বেও আট মাস ধরে হয়রানি করে নিয়োগবঞ্চিত করার তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ এবং নিয়োগ নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।
একই ইস্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ ও লালকার্ড প্রদর্শন করে মানববন্ধন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাইয়ান ফেরদৌস ও সভাপতি হাসিব আল ইসলাম অভিযোগ করেন, দলীয়করণের মানসিকতা থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
সরকারি নিয়োগব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে জানান, কেবল ২৭টি জেলাতেই অন্তত ৭৭৮ জন প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। সরকারি চাকরিকে দলীয় আনুগত্যের পুরষ্কার বানানোর চেষ্টা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত উল্লেখ করে তিনি জানান, এ ধরনের বৈষম্য ও গোপন সিদ্ধান্তের দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।
এদিকে ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রার্থীরা অবিলম্বে তাঁদের নথি নিরপেক্ষভাবে পুনর্মূল্যায়নের জন্য পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-নথি নিরপেক্ষভাবে পুনরায় যাচাই করা, আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য প্রশাসনিক আপিলের ব্যবস্থা, প্রশাসনিক ভুল সংশোধন করা, ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাদ পড়াদের নিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া এবং কীসের ভিত্তিতে এই প্রার্থীরা বাদ পড়লেন তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রকাশ করা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এক ফেসবুক বার্তায় জানান, শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অবকাশ নেই। ভেরিফিকেশন বা ভেটিং সরকারি চাকরিতে একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক নিয়ম। ১ অক্টোবরের মধ্যে যদি উত্তীর্ণ কোনো প্রার্থী নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকেন, তবে তা যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে।
এসএইচ







































