• ঢাকা
  • রবিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২১, ৪ মাঘ ১৪২৭

সালমানকে ‘ঈশ্বর’ মনে করা সেই হিমেশ হারিয়ে গেলেন কেন?


বিনোদন ডেস্ক ডিসেম্বর ১, ২০২০, ১২:২৬ পিএম
সালমানকে ‘ঈশ্বর’ মনে করা সেই হিমেশ হারিয়ে গেলেন কেন?

ঢাকা: অভিনেতা সালমান খানের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকা দুষ্কর! তাই অনেকে তার বাঁকা কথাও মুখ বুজে সহ্য করেন—নানা সময়ে এমন কথা শোনা যায়। ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী হিমেশ রেশমিয়া এক সময় সালমান খানকে ‘গুরু’ মানতেন। কিন্তু সেই গুরুর সঙ্গে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন তিনি।

একসময় সালমান খানকে কেন ‘গুরু’ মনে করতেন হিমেশ? আর কেনই বা তার মনে তৈরি হয়েছিল বিদ্বেষ? হিমেশের বাবা একজন গুজরাটি মিউজিক কম্পোজার। তবে হিমেশের সংগীত ক্যারিয়ারে তার বাবার তেমন কোনো অবদান নেই। বলিউডে হিমেশকে কাজের সুযোগ করে দিয়েছিলেন সালমান খান। তারপর থেকেই সালমানকে ‘গুরু’ মানতেন তিনি।

১৯৯৮ সালে ‘প্যায়ার কিয়া তো ডরনা ক্যায়া’ সিনেমায় হিমেশকে প্রথম কাজের সুযোগ দেন সালমান খান। এই ফিল্মের দুটো গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন হিমেশ। দুটো গানই সুপারহিট হয়। এরপর হিমেশকে আরো কাজের সুযোগ করে দিতে থাকেন তিনি। সালমান অভিনীত ‘বন্ধন’, ‘হ্যালো ব্রাদার’-এও হিমেশকে সুযোগ দেন সালমান খান। হিমেশের ক্যারিয়ারে সালমানের অবদান এতটাই ছিল যে, তাকে ‘ঈশ্বর’ মনে করতেন হিমেশ। এমনকি সালমানের নিজের প্রথম প্রোডাকশনে একক মিউজিক কম্পোজার হিসেবে কাজের সুযোগ দেন হিমেশকে।

২০০৫ সালে ‘আশিক বানায়া আপনে’ সিনেমার গান এতটাই হিট হয় যে, তরুণ প্রজন্মের কাছে হিমেশ অসম্ভব জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ক্যারিয়ারের গ্রাফ সবসময় উর্ধ্বমুখী হতে থাকে। গুরু-শিষ্যের মধ্যে সম্পর্কও দারুণ ছিল। কিন্তু একটি ঘটনা তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরিয়ে দেয়।

২০০৬ সালে সালমানের সঙ্গে লাইভ শো করার জন্য নাগপুরে গিয়েছিলেন হিমেশ। এ গায়ক মঞ্চে ওঠার পর দর্শকদের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা শুরু হয়। একের পর এক গানের অনুরোধ আসতে থাকে হিমেশের কাছে। হিমেশও একাধারে গান গেয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সালমান যখন মঞ্চে আসেন হিমেশের মতো উত্তেজনা দর্শক দেখাননি। এটাই মনে দাগ কাটে সালমানের।

হিমেশের তারকা খ্যাতি সালমানের চেয়ে ছাপিয়ে যাক তা আসলে মেনে নেওয়া তার জন্য সহজ ছিল না। এর পর সালমান তার ফিল্মে হিমেশের জন্য সুপারিশ করা বন্ধ করে দেন। কিন্তু ততদিনে ইন্ডাস্ট্রিতে হিমেশ নিজের জায়গা এতটাই পাকা করে নিয়েছিলেন যে সালমানের সুপারিশের প্রয়োজন ছিল না তার। এর মধ্যে সালমান-হিমেশের বিবাদ প্রকাশ্যে চলে আসে।

এর এক বছর পর ‘সারেগামা’-এর মঞ্চে ‘পার্টনার’ সিনেমার প্রচারের জন্য উপস্থিত হন সালমান খান। এ শোয়ে বিচারকের আসনে ছিলেন হিমেশ। সালমান খান নিজের চলচ্চিত্রের প্রচার বাদ দিয়ে পুরোটা সময় মজার ছলে হিমেশকে অপমান করতে থাকেন। কখনো তার মাইক ধরার স্টাইল নিয়ে আবার কখনো টুপি, জামা, কণ্ঠস্বর নিয়ে ক্রমাগত হিমেশকে অপমান করেন সালমান। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো হিমেশ পুরোটা সময় হাসি-মুখে সব কিছু মেনে নিয়েছিলেন। একটি বিষয়েও কোনো জবাব দেননি ‘গুরু’ সালমানকে।

এ ঘটনার এক বছর পর ফের সালমান নিজের আরেকটি চলচ্চিত্রের প্রচারের জন্য ওই শোয়ে যান। আবারো হিমেশকে টার্গেট করেন সালমান। ফের তার গান নিয়ে মজা করতে শুরু করেন। হিমেশ গান চুরি করেন, হিমেশ বাচ্চাদের জন্য গান বানান, এমনকি হিমেশের গানের সুর বলে কিছু নেই—এমন সব মন্তব্য করেন সালমান। কিন্তু গত বছরের মতো আর চুপ ছিলেন না হিমেশ। বরং হাসি মুখে হিমেশও জবাব দেন। তবে এ হাসি বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। সর্বশেষ বিরক্ত হয়ে যান। যা তার চোখে-মুখে দারুণভাবে স্পষ্ট হয়।

সোনালীনিউজ/এইচএন