ছবি: সোনালীনিউজ
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোলায়মান হোসাইনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, দ্য নিউএজ সম্পাদক প্রবীণ সাংবাদিক নূরুল কবীরকে হেনস্থা, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকা অফিসে হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ডিআরইউ।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সামনে সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সভাপতিত্বে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডিআরইউর নেতৃবৃন্দসহ গণমাধ্যমের সিনিয়র সাংবাদিকরা অংশ নেন।
ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন তার বক্তৃতায় বলেন, ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সম্পূর্ণ মিথ্যা। এসব মামলার মাধ্যমে ডিআরইউকে হয়রানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আমরা মনে করি।
তিনি বলেন, দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, হয়রানি ও মিথ্যা মামলা গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে। প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার অফিসে হামলা ও দ্য নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবীরকে প্রকাশ্যে হেনস্থার ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত।
এর আগে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদের ওপর জঘন্যতম হামলা হয়েছে, দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকা অফিসে আগুন, চ্যানেল ওয়ান ও দিগন্ত টেলিভিশন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সংগ্রাম পত্রিকা অফিস থেকে একজন বয়োবৃদ্ধ সম্পাদককে মারধোর করে পুলিশের কাছে তুলে দেয়া হয়। আদালতে আমারদেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে রক্তাক্ত করা হয়। এসব হামলার বিচার না হওয়ার কারণেই দুবৃত্তরা দেশের শীর্ষ স্থানীয় পত্রিকা অফিস দৈনিক প্রথম আলো- দ্য ডেইলী স্টার পত্রিকা অফিসে ন্যাক্কারজনক হামলা করার সাহস পেয়েছে। আমরা গণমাধ্যমে হামলা মামলার চিরস্থায়ী অবসান চাই।
তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার উপর দায়ের হওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, প্রবীণ সাংবাদিক নিউএজ সম্পাদক নুরুল কবীরকে হেনস্থায় জড়িতদের এবং প্রথম আলো- ডেইলি স্টার পত্রিকা অফিসে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করার আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় ডিআরইউ আরও বৃহত্তম কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিযারি দেন।
সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, ডিআরইউ সব সময় তার সদস্যদের পাশে থাকেন। তিনি প্রথম আলো- ডেইলি স্টার পত্রিকা অফিসে হামলাকে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের পরিপন্থি বলে মনে করেন। বিগত সরকারের সময় ইনকিলাব পত্রিকা অফিস হামলা করা হয়েছিল। সেসময় বেশ কিছুদিন ইনকিলাব পত্রিকা বন্ধ ছিল। এখনো ইনকিলাব পত্রিকার সাংবাদিকদের উপর দায়ের হওয়া মামলায় আদালতে সাক্ষী দিতে হচ্ছে। মনে রাখতে হবে গণমাধ্যম রাষ্টের চতুর্থ স্তম্ভ। চাইলেই গণমাধ্যমের মুখ বন্ধ করা যায় না। এতে সাময়িকভাবে লাভবান হলেও দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনে না।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, এ দেশে গণমাধ্যমের উপরে আগুন নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে নয়াদিগন্ত পত্রিকা অফিসেও আগুনের ঘটনা ঘটেছে। আমারদেশ ও সংগ্রাম সম্পাদকদের ওপর হামলা হয়েছে। আমরা তখনোও সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় রাস্তায় ছিলাম, এখনো রাস্তায় আছি। আমাদের প্রতিপক্ষ সহকর্মীরা তখন নিশ্চুপ ছিলেন। আমরা গণমাধ্যমের মত প্রকাশে বিশ্বাসী। আমরা দৈনিক প্রথম আলো -ডেইলি স্টারে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। দ্রুত জড়িত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করার জোড় দাবি জানাই।
মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ডিআরইউ’র সাবেক সভাপতি শফিকুল করিম, ডিআরইউ’র সহ-সভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, সাংগঠনিক সগম্পাদক এম এম জসিম, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, নারী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য মাহফুজ সাদি, মো: মাজাহারুল ইসলাম, ডিআরইউ’র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নাদিয়া শারমিন, সাবেক নারী বিষয়ক সম্পাদক রোজিনা রোজী, সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য কুদরত-ই খোদা, স্থায়ী সদস্য মতলু মল্লিক, কামরুজ্জামান খান, আতিকুল ইসলাম, দীপন নন্দী, ডিএম আমিরুল ইসলাম অমর প্রমুখ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউর যুগ্ম সম্পাদক মো: জাফর ইকবাল, তথ্য প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া, কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃর্ধা, কার্যনির্বাহী সদস্য আলী আজম, সুমন চৌধুরী, রিপোর্টার্স অ্যাগেইস্ট করাপশনের (র্যাক) সভাপতি শাফি উদ্দিন আহমদ, ডিআরইউর স্থায়ী সদস্য শেখ আরীফ, নাজনীন আক্তার, শেখ আব্দুল্লাহ প্রমুখ।
পিএস







































