• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

সরকারি দামের চেয়ে ৫০০ টাকা বেশি, তবুও মিলছে না এলপিজি


নিজস্ব প্রতিবেদক সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
সরকারি দামের চেয়ে ৫০০ টাকা বেশি, তবুও মিলছে না এলপিজি

রাজধানীর বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ নিয়ে ব্যবসায়ীরা সংকট না থাকার কথা বললেও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার। শুধু বাড়তি দামই নয়, অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা দিয়েও প্রয়োজনের সময় সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে একই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায়।

বিক্রেতাদেরও অভিযোগ বাড়তি দামে কেনার

বিক্রেতাদের দাবি, তারা নিজেরাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি কিনছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতেই ১ হাজার ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে।

এক বিক্রেতা বলেন, কোম্পানির কাছ থেকে বেশি দামে কিনে বিইআরসির নির্ধারিত ১ হাজার ৫৮৫ টাকা দরে বিক্রি করলে তাদের লোকসান হবে। এ ছাড়া কোম্পানির নির্ধারিত দাম ও বিইআরসির দামের মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ব্যবসায়ীদের সংগঠন এলপি গ্যাস ট্রেডার্স কোঅপারেটিভ সোসাইটির নেতারাও সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যার কথা জানিয়েছেন। সংগঠনটির ট্রেজারার আবু তাহের খোরশেদ বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে আট দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করে রেশনিংয়ের মাধ্যমে সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। কিছু কোম্পানি পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় বিক্রি বন্ধ রেখেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

চাহিদা অনুযায়ী মিলছে না সিলিন্ডার

ব্যবসায়ীরা বাজারে বড় ধরনের সংকট নেই বললেও ক্রেতাদের অভিজ্ঞতায় সরবরাহ ঘাটতির বিষয়টি উঠে আসছে। অনেক ডিলারের কাছে খোঁজ করেও সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগ করছেন তারা।

এক ক্রেতার ভাষ্য, এক ডিলারের কাছে গেলে বলা হচ্ছে সিলিন্ডার নেই, অন্য জায়গাতেও একই পরিস্থিতি। রান্নার কাজে এলপিজির বিকল্প না থাকায় শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে বেশি দামেই সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।

বর্তমানে ৩৫ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডার প্রায় সাড়ে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলেও বাজারে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

আমদানি হচ্ছে, তবুও কেন বাড়তি দাম?

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। সেপ্টেম্বরেও আমদানির পরিমাণ এর কাছাকাছি ছিল। ফলে পর্যাপ্ত আমদানির পরও কেন বাজারে বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে এবং চাহিদার সময় সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ পরিস্থিতির পেছনে কোথায় সমস্যা হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান।

তার মতে, এলপিজি বাজার তদারকিতে সরকারের একাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সাধারণ ভোক্তার স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ধারিত হিসাব অনুযায়ী বাজারে দাম কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

একদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা বেশি দামে এলপিজি কিনছেন; অন্যদিকে ভোক্তাদের দিতে হচ্ছে নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি। এর পরও অনেক সময় মিলছে না প্রয়োজনীয় সিলিন্ডার। ফলে এলপিজির সরবরাহ, কোম্পানি পর্যায়ের মূল্য এবং খুচরা বাজারের দামের মধ্যে কোথায় অসঙ্গতি তৈরি হচ্ছে, সেটিই এখন খতিয়ে দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এম

Link copied!