ফাইল ছবি
ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন দমাতে নির্বিচারে ১৫৩ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ার নির্দেশদাতা ছাত্রলীগ ক্যাডার অমিত কুমার সাহা এখনও সরকারি চাকরিতে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৩৬তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা বর্তমানে বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে এই নৃশংস ভূমিকার অকাট্য প্রমাণ মিলেছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই রামপুরা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেসির দায়িত্বে ছিলেন অমিত কুমার সাহা। সেদিন তার সরাসরি নির্দেশে সহকারী পরিচালক বেগ আব্দুল আল মাসুম, সুবেদার আব্দুস সালাম এবং হাবিলদার মোজাম্মেল হক ১৫৩ রাউন্ড এসএমজি দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সেই গুলিতে দুলাল মাদবর নামের এক ব্যক্তি এবং ঢাকা ইম্পেরিয়াল কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র মো. জিল্লুর শেখ নির্মমভাবে নিহত হন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেওয়া অমিত কুমার সাহা ছাত্রজীবনে জগন্নাথ হল ছাত্রলীগের ক্যাডার ছিলেন। দলীয় সেই প্রভাব খাটিয়েই আওয়ামী শাসনামলে ঢাকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পদায়ন পান তিনি। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এই কর্মকর্তাকে প্রথমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে মাত্র দুই মাস অবস্থান করেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি চক্রকে ম্যানেজ করে তিনি পুনরায় ঢাকায় ফিরে আসেন।
ছাত্র-জনতার রক্তের দাগ না শুকাতেই এমন বিতর্কিত ও অভিযুক্ত কর্মকর্তার স্বপদে বহাল থাকা এবং শাস্তি এড়িয়ে কর্মস্থল পরিবর্তন করার ঘটনাটি প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে গভীর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর যেখানে ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচারের মুখোমুখি করার জোর দাবি উঠেছে, সেখানে অমিত কুমার সাহার মতো কর্মকর্তাদের এমন দাপুটে অবস্থান সরকারের জবাবদিহিতাকে এক বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
এসএইচ







































