• ঢাকা
  • সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯

ক্লুলেস হত্যার তদন্তে গিয়ে ডিবির হাতে গ্রেপ্তার সংঘবদ্ধ চক্র 


নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারি ১৪, ২০২৩, ১২:৫১ পিএম
ক্লুলেস হত্যার তদন্তে গিয়ে ডিবির হাতে গ্রেপ্তার সংঘবদ্ধ চক্র 

ঢাকা: আশিয়ান সিটিতে হওয়া হত্যার তদন্ত করতে গিয়ে অটোরিকশা চোর, গুম ও হত্যাকারী চক্রের প্রধান হোতা সহ ছয় জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা।

শনিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হারুন অর রশীদ এ কথা জানান।

গত ১৩ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মৌলভীবাজারের রাজনগর থানা এলাকাসহ ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের বিমানবন্দর জোনাল টিম।

গ্রেপ্তাররা হলেন, খালেদ খান শুভ (২০), মো. টিপু (৩১), হাসানুল ইসলাম ওরফে হাসান (২০), জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০), আব্দুল মজিদ (২৯) ও মো. সুমন (৩৫)। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি বাটন মোবাইল, ২ চাকু (সুইস গিয়ার), তিনটি অটোরিকশা ও পাথর উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, ডিসেম্বর মাসের ৭ তারিখ একজন অটোরিকশা চালক বাসা থেকে অটো রিকশা নিয়ে বের হয়। সেদিন দিবাগত রাতে (৮ ডিসেম্বর) তার মায়ের সঙ্গে কথা হয়। ভিকটিম তার মাকে জানায় রিকশা চালাচ্ছে। এরপর থেকে ছেলে নিখোজ। আশিয়ান সিটিতে পাওয়া লাশ পরিবার শনাক্তের পর ১৭ তারিখ মামলা দায়ের কারা হয়। সেই হত্যা মামলা তদন্ত করতে গিয়ে এক বিশাল চক্র গোয়েন্দাদের সামনে আসে।

তিনি আরো বলেন, এই চক্রটি শুধু অটোরিকশা ছিনাতাই করে না। তারা হত্যা করে, ডাকাতিও করে। এই চক্রটি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এমন ভাবে ছিনতাই ও ডাকাতি করে যেসব নিয়ে কেউ অভিযোগ করে না। হত্যা করে লাশ এমন স্থানে ফেলে যেটা সহযে পাওয়া যায় না। 

হারুন বলেন, মৌলভীবাজারের রাজনগর এলাকা থেকে আসামি মো. খালেদ খান শুভকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় তার কাছ থেকে ভিকটিমের ব্যবহৃত বাটন মোবাইলটি উদ্ধার করা হয়। 

হারুন অর রশীদ আরও বলেন, গ্রেপ্তার মো. খালেদ খান শুভর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণখান থানা এলাকা থেকে হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত মো. টিপু ও মো. হাসানুল ইসলাম ওরফে হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেপ্তার মো. টিপু ও মো. হাসানুল ইসলাম ওরফে হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও আব্দুল মজিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় ভিকটিমের অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও অন্য একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গুম, ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত একটি সুইস গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানায়, শুধু মোস্তফা নয়, গত ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর টিপু, হাসানুল ইসলাম ও শুভ যাত্রী সেজে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালককে গাজীপুরের কালিগঞ্জ থানাধীন পূর্বাচলের ২৫ নম্বর সেক্টরের নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। এরপর ধারালো ছুরি দিয়ে চালককে হত্যার পর তার লাশ ড্রেনে ফেলে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।

ডিবি প্রধান জানায়, এই ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, গুম ও ছিনতাই ঘটনার একাধিক মামলা রয়েছে। আসামিরা এ সকল ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখছে ডিবি পুলিশ।

এ চক্রের সদস্যদের হাতে খুন হওয়া একজন হলেন মোস্তফা। তিনি রাজধানীর দক্ষিণখানের বাসিন্দা। পেশায় রিকশা চালক। গত ৭ ডিসেম্বর রাতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি। নিখোঁজের ১০ দিন পর ছেলের গলিত মরদেহ পায় মা শামছুন্নাহার। ছেলে হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের খবরে ছুটে আসেন মিন্টো রোডে।

তিনি জানান, নিখোঁজের ১১দিনের মাথায় ফোন আসে আমার মেয়ের জামাইয়ের কাছে। আশিয়ান সিটি নামে একটি জায়গায় আমার ছেলের লাশ পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি আমার ছেলের নিথর দেহ পড়ে আছে।

কাঁদতে কাঁদতে ছেলে হারানো এ বৃদ্ধা মা বলেন, বউসহ আমার তিন নাতি-নাতনী আছে। তারা ছোট ছোট, তাদেরকে নিয়ে আমি এখন কোথায় যাবো। ছেলেই আমার সংসার চালাতো। আমার কেউ রইলো না।

সোনালীনিউজ/আর/এলআই

Wordbridge School