• ঢাকা
  • রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

১৮ কেজি ওজন কমিয়ে নতুন ফিটনেস রুটিনে ঋতাভরী


বিনোদন ডেস্ক অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১০:৩২ এএম
১৮ কেজি ওজন কমিয়ে নতুন ফিটনেস রুটিনে ঋতাভরী

ঋতাভরী চক্রবর্তী

টালিউড অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তী বরাবরই নিজের ফিটনেস নিয়ে সচেতন। তবে তার ফিট থাকার গল্পটা শুধুই ওজন কমানোর নয়; বরং শরীরের সঙ্গে লড়াই করে সুস্থ থাকার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার। অতীতে অতিরিক্ত ওজন কমাতে গিয়ে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন তিনি। পরে অস্ত্রোপচার ও স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আবার অনেকটা ওজন বেড়ে যায়। এবার কোনো দ্রুত ফলের পথ বেছে না নিয়ে প্রায় দেড় বছর ধরে ধৈর্য ও নিয়ম মেনে ১৮ কেজি ওজন কমিয়েছেন অভিনেত্রী।

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ফটোশুট কিংবা সিনেমার শুটিংয়ের আগে দ্রুত ওজন কমানোর জন্য কার্বোহাইড্রেট, চিনি, তেল ও লবণ প্রায় পুরোপুরি বাদ দিতেন ঋতাভরী। তাতে ওজন কমলেও শরীর হয়ে উঠেছিল অতিরিক্ত দুর্বল। এমনকি একবার অস্ত্রোপচারের সময় তার পুরো শরীর কাঁপতে শুরু করে। চিকিৎসকেরা তখন স্পষ্ট করে দেন, প্রয়োজনীয় ওজন না বাড়ালে পরবর্তী অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হবে না।

এরপর সুস্থ হওয়ার জন্য তাকে ওজন বাড়াতে হয়। পরপর কয়েকটি অস্ত্রোপচার এবং স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধের প্রভাবে সেই ওজন আবার অনেকটাই বেড়ে যায়। সেই বাড়তি ওজন নিয়েও একাধিক ছবিতে কাজ করেছেন অভিনেত্রী এবং দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন।

তবে প্রায় দেড় বছর আগে নিজের শরীরকে ভেতর থেকে আরও সুস্থ ও সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেন ঋতাভরী। তার লক্ষ্য ছিল এমন একটি শরীর, যেখানে না খেয়ে থাকতে হবে না, আবার দৈনন্দিন কাজ কিংবা সিঁড়ি ভাঙার সময়ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা হবে না। সেই লক্ষ্যেই ধীরে ধীরে বদল আনেন খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায়।

অভিনেত্রীর দাবি, ওজন কমানোর আগে এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ও পুষ্টিবিদদের পরামর্শ নিয়েছিলেন তিনি। কোনো ওষুধ বা দ্রুত ওজন কমানোর পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে দীর্ঘ সময় ধরে নিয়ম মেনে চলেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় কমেছে ১৮ কেজি ওজন।

কী থাকে ঋতাভরীর ডায়েটে?

সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস ডাবের পানি দিয়ে দিন শুরু করেন অভিনেত্রী। এরপর নাস্তায় থাকে একটি গোটা ডিম, তিনটি ডিমের সাদা অংশ, মাখন মাখানো এক টুকরো পাউরুটি এবং একটি কলা। খাবার শেষ করার পর চা বা কফি পান করেন তিনি।

পিত্তথলি অপসারণের পর খালি পেটে চা-কফি খাওয়া বন্ধ করেছেন ঋতাভরী। সন্ধ্যা ৬টার পরও সাধারণত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলেন।

দুপুরের খাবারে কখনও মাটন স্টু ও ব্রাউন রাইস, আবার কখনও রোস্টেড চিকেন, কাবলি ছোলার ডাল ও রুটি থাকে। খাবারের সঙ্গে নিয়ম করে রাখেন গাজর, শসা, টমেটো ও পেঁয়াজের সালাদ।

বিকেলের জলখাবারেও খুব পরিচিত খাবারই বেছে নেন তিনি। সেদ্ধ আলু ও ছোলা দিয়ে তৈরি চাট, চুরমুর, মুড়িমাখা কিংবা ভুট্টার চাট থাকে তার পছন্দের তালিকায়।

রাতের খাবার অনেকটা দুপুরের মতো হলেও এ সময় কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে দেন। কখনও মুরগির মাংসের সঙ্গে কম ক্যালোরির গ্লাস নুডলসও রাখেন মেনুতে। তবে সপ্তাহে একদিন নিজের পছন্দের খাবারের জন্য জায়গা রাখেন অভিনেত্রী। প্রতি রোববার তার তালিকায় থাকে আধা প্লেট মাটন বিরিয়ানি।

বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১৫০০ ক্যালোরির খাবার হিসাব করে খান ঋতাভরী।

হাঁটা ও ব্যায়ামেও নিয়ম

ফিটনেস রুটিনে হাঁটাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন অভিনেত্রী। যাত্রার শুরুতে প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার পা হাঁটলেও এখন সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০ হাজার।

বাড়িতেই জিমের ব্যবস্থা করেছেন ঋতাভরী। কাজের দিনে প্রায় ৩৫ মিনিট এবং ছুটির দিনে তার সঙ্গে আরও ১০ মিনিট ব্যায়াম করেন। তবে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর শরীরচর্চা করাকেই ফিট থাকার একমাত্র উপায় বলে মনে করেন না তিনি।

ঋতাভরীর অভিজ্ঞতায়, অতিরিক্ত রোগা হওয়াই ফিট থাকার একমাত্র সংজ্ঞা নয়। নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে সুস্থ থাকা এবং দীর্ঘদিন সেই অভ্যাস ধরে রাখাই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সামনে দুর্গাপূজা। উৎসবের দিনগুলোতে পছন্দের খাবার উপভোগ করতে চান অভিনেত্রী। তাই তার আগে নিয়ম মেনে খাবার ও শরীরচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিনের এই ফিটনেস রুটিনের পর পূজার সময় নিজের পছন্দের খাবার একটু নিশ্চিন্তে উপভোগ করাই এখন ঋতাভরীর পরিকল্পনা।

/এম/

Link copied!