ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় আটক তিন জনের ‘কনস্যুলার অ্যাক্সেস’ চেয়েছিল কলকাতার উপ-হাইকমিশন। তবে, ভারত সরকার থেকে সেই অ্যাক্সেস এখনও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, “অ্যাক্সেস পাওয়ার পর তদন্ত করে আরও বিস্তারিত জানা যাবে। অ্যাক্সেসের বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন।”
সোমবার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, “ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। যাদের ধরা হয়েছে তাদের কনস্যুলার অ্যাক্সেস পেতে এবং ফেরত আনতে সরকার সর্বপ্রকার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমাদের হোম মিনিস্ট্রি তাদের কাজ করছে। প্রথম দুজনকে অ্যারেস্ট করা হয়েছিল। তাদের কনস্যুলার অ্যাক্সেস আমরা চেয়েছিলাম আগে। এখন থার্ড যাকে অ্যারেস্ট করা হয়েছে, তারও কনস্যুলার অ্যাক্সেস আমরা চেয়েছি। অ্যাক্সেস পাওয়ার পরে আমরা ইনভেস্টিগেশন করে বিস্তারিত বলতে পারবো। কিন্তু, আমাদের তরফ থেকে সম্পূর্ণ চেষ্টা চলছে। আশা করছি ভারত সম্পূর্ণরূপে সহযোগিতা করবে।”
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ নয়টি মানবাধিকার সংগঠন এক চিঠিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, এখনও তিনি প্রতিবেদনটি পড়ে দেখেননি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গত ১৭ বছরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিটি জায়গা আমরা দেখে এসেছি। মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বারবার। যে র্যাবকে মানুষের সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, সেই র্যাবকে গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন করতে ব্যবহার করেছে।”
তিনি বলেন, “বিএনপি একটি মানবিক সরকার গঠন করেছে। মানবাধিকার যাতে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত এবং আরও শক্তিশালী হয়, সেই লক্ষ্যে বিএনপি বিগত দিনে কাজ করেছে। মাত্র সরকার গঠন হয়েছে। এ প্রশ্ন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে করলে ন্যায্যতা পাবে। আর এটা সময়ের ব্যাপার, প্রতিবেদনটা পড়ে দেখতে হবে।”
সোমবার বিকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে। সেখানে রাষ্ট্রদূত ফ্রান্স থেকে এয়ারবাস কেনার বিষয়টি তুলেছেন কিনা জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, “আমাদের সব বন্ধুদের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আলাপ হয়। বাংলাদেশের সবার সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে বাংলাদেশ প্রথম নীতির ভিত্তিতে।”
প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন সাক্ষাৎ করেছেন। সেই সাক্ষাতে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, “জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে আমরা জেনেছি, বর্তমানে কোনও জ্বালানি সংকট নেই। আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য সব দেশের সঙ্গে জ্বালানি মন্ত্রণালয় কথা বলছে। আমাদের সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি ছাড়াও বহু ইস্যু আছে কথা বলার।”
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি যারা আছেন তাদের মধ্যে যারা দেশে আসতে চাইছেন তাদের বিশেষ ফ্লাইটে আসার জন্য আমরা ব্যবস্থা করছি। যারা আসতে পারছেন না, তারা যেন ওখানে নিরাপদ থাকেন সেটা আমরা নিশ্চিত করছি।”
এম







































