জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম কোন যোগ্যতায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন— এমন প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান। বৃহস্পতিবার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ বিষয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।
ভিডিও বক্তব্যে জাহেদ উর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রতিদ্বন্দ্বী জোটগুলোর প্রধান নেতারাই সাধারণত জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে থাকেন, যা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক রেওয়াজ। অতীতে যখন বাস্তব অর্থে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো, তখন এই ভাষণগুলো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভিতে সম্প্রচার করা হতো, যাতে সারা দেশের মানুষ তা দেখতে পারে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে জানা গেছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জামায়াতের আমির ড. শফিকুর রহমান আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। এটিই স্বাভাবিক ধারার অংশ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে তার আপত্তি মূলত এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে ঘিরে। জাহেদ উর রহমান বলেন, নাহিদ ইসলামও জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন— এমন তথ্য পাওয়া গেছে, যদিও এখনো তার ভাষণের নির্দিষ্ট সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি। এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাকে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “নাহিদ ইসলাম কীভাবে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার যোগ্য হয়ে উঠলেন— সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।”
জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, এনসিপি বর্তমানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ। সেই জোটের প্রধান নেতা ড. শফিকুর রহমান যখন ভাষণ দিচ্ছেন, তখন আলাদা করে নাহিদ ইসলামের ভাষণের কোনো যৌক্তিকতা নেই। অতীতেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রধানরাই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ছাত্র সংগঠনের প্রতি একটি “সিরিয়াস বায়াস” লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দল নিয়ে আলোচনায় এনসিপিকে নিয়মিত আমন্ত্রণ জানানো হতো, যা তিনি আগে পর্যন্ত সহনীয় হিসেবে দেখেছিলেন।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এনসিপি আর স্বাধীন অবস্থানে নেই দাবি করে তিনি বলেন, “এখন এনসিপি কোনো ইন্ডিপেন্ডেন্ট দল নয়। ফলে তাদের নেতাকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।”
জাহেদ উর রহমান বলেন, ড. ইউনূস একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে রয়েছেন, যেখানে সবার প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা জরুরি। কোনো নির্দিষ্ট দলকে বিশেষ সুবিধা দিলে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হবে।
সবশেষে তিনি বলেন, সরকারকে এখনই এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে এবং কোনোভাবেই নাহিদ ইসলামকে বিটিভিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
এম







































