• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

রমজানের পাঁচটি প্রস্তুতি


ধর্মচিন্তা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ১০:১২ এএম
রমজানের পাঁচটি প্রস্তুতি

রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের সওগাত নিয়ে প্রতি বছরই আমাদের দুয়ারে হাজির হয় পবিত্র মাহে রমজান। এটি কেবল উপবাসের মাস নয়; বরং আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুবর্ণ সুযোগ। এ মাসের প্রতিটি আমলের সওয়াব অন্য সময়ের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়। তাই প্রতিটি সচেতন মুমিনের অন্তরে এ প্রশ্ন জাগে—কীভাবে রমজানকে যথাযথভাবে প্রস্তুত ও সার্থক করা যায়?

আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.), তাঁর সাহাবায়ে কেরাম এবং পরবর্তী যুগের সালেহিনগণ রমজানকে স্বাগত জানাতে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। নিচে রমজানের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।

১. রমজান লাভের দোয়া ও কবুলিয়তের প্রার্থনা

রাসুলুল্লাহ (সা.) রজব ও শাবান মাস থেকেই রমজানের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন। তিনি বলতেন,
“হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।” (মুসনাদে আহমাদ: ২৩৪৬)

হজরত মাআলা ইবনে ফাদল (রহ.) বলেন, সালাফে সালেহিন রমজান লাভের জন্য ছয় মাস আগে দোয়া করতেন এবং রমজান শেষ হওয়ার পরবর্তী ছয় মাস আল্লাহর কাছে ইবাদত কবুল হওয়ার প্রার্থনা করতেন। (লাতায়িফুল মাআরিফ)

এতে বোঝা যায়, রমজান শুধু পাওয়াই নয়—রমজানের আমল কবুল হওয়াটাই আসল সাফল্য।

২. নফল রোজার মাধ্যমে শারীরিক ও আত্মিক প্রস্তুতি

রমজানের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে নবীজি (সা.) শাবান মাসে অধিক পরিমাণে নফল রোজা রাখতেন। উসামা ইবনে জায়দ (রা.) এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন,
“এ মাসে মানুষ গাফিল থাকে, অথচ এই মাসেই আমলসমূহ আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। তাই আমি চাই রোজা অবস্থায় আমার আমল পেশ হোক।” (সুনানে নাসায়ি: ২৩৫৭)

শায়খুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া (রহ.) লিখেছেন, আকাবিরগণ শাবানে বেশি নফল রোজা রাখতেন, যাতে রমজানের ফরজ রোজাগুলো সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে আদায় করা যায়।

৩. কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করা ও আত্মশুদ্ধি

রমজান হলো কোরআনের মাস। প্রতি রমজানে হজরত জিবরাইল (আ.) নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে কোরআন তিলাওয়াত ও পুনরালোচনা করতেন। তাই রমজানের আগে থেকেই নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে আত্মশুদ্ধির দিকেও মনোযোগ দেওয়া জরুরি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ পরিত্যাগ করে না, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।” (সহিহ বুখারি: ১৯০৩)

অর্থাৎ রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো চরিত্র ও আচরণের সংশোধন।

৪. দান-সদকার মানসিকতা তৈরি

রমজানে নবীজি (সা.) ছিলেন সবচেয়ে বেশি দানশীল। বর্ণনায় এসেছে, জিবরাইল (আ.) যখন রমজানে তাঁর কাছে আসতেন, তখন তিনি প্রবাহিত বাতাসের চেয়েও দ্রুতগতিতে দান করতেন।

সালাফে সালেহিন রমজানের আগে থেকেই দান-সদকার পরিকল্পনা করতেন। কারণ এ মাসে একটি সদকা অন্য সময়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি সওয়াবের অধিকারী হয়।

৫. সময় ব্যবস্থাপনা ও মানসিক প্রস্তুতি

হজরত সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত, শাবান মাসের শেষ দিকে নবীজি (সা.) এক গুরুত্বপূর্ণ খুতবায় রমজানের মর্যাদা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন,
“এটি ধৈর্যের মাস, সহমর্মিতার মাস। এ মাসে একটি নফল অন্য মাসের ফরজের সমান এবং একটি ফরজ সত্তরটি ফরজের সমান সওয়াব বহন করে।” (মুসনাদে আহমাদ)

আমাদের পূর্বসূরিগণ রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগাতে সুপরিকল্পিত সময়সূচি তৈরি করতেন। আমরাও যদি দুনিয়াবি ব্যস্ততা কমিয়ে ইবাদতকেন্দ্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ করি, তবে রমজান হতে পারে জীবনের মোড় ঘোরানো এক প্রশিক্ষণকাল।

রমজান যেন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ইবাদতের মাস না হয়ে ওঠে; বরং এটি আমাদের চরিত্র, জীবনধারা ও আল্লাহভীতিকে নতুনভাবে গড়ে তোলার সুযোগ হয়ে ওঠে—এই হোক আমাদের প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য।

এম

Wordbridge School
Link copied!