• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

শবে বরাত: ইবাদতের বড় সুযোগ, বাড়াবাড়ি নয়


নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
শবে বরাত: ইবাদতের বড় সুযোগ, বাড়াবাড়ি নয়

ফাইল ছবি

শবে বরাত বা নিফসে শাবান মুসলমানদের জন্য একটি ফজিলতপূর্ণ রাত। তবে এ রাতের সব ইবাদতই নফল। কোরআন ও সহিহ হাদিসে শবে বরাতকে কেন্দ্র করে কোনো ফরজ, ওয়াজিব বা সুন্নতে মুয়াক্কাদা ইবাদতের কথা উল্লেখ নেই।

আলেমদের মতে, এ রাতে কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, দোয়া, তাওবা-ইস্তেগফার এবং নফল নামাজ আদায় করা উত্তম। হাদিসে প্রমাণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই রাতে দীর্ঘ সময় নফল নামাজে কাটিয়েছেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো নিয়মে বা নির্দিষ্ট সংখ্যায় নামাজ পড়ার দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় না।

শবে বরাতকে কেন্দ্র করে কিছু বই-পুস্তক ও প্রচলিত বর্ণনায় নির্দিষ্ট সংখ্যক রাকাত, নির্দিষ্ট সূরা বা বিশেষ পদ্ধতিতে নামাজ আদায়ের কথা বলা হয়। আলেমরা বলছেন, এ ধরনের নিয়ম কোরআন ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। এগুলো মনগড়া পদ্ধতি, যা ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়।

হাদিস শরিফে শবে বরাতের জন্য আলাদা কোনো নামাজের নিয়ম নির্ধারিত হয়নি। ফলে এসব পদ্ধতিকে ইবাদতের অংশ মনে করে পালন করা বিদআতের অন্তর্ভুক্ত।

শবে বরাতে কেউ নফল নামাজ পড়তে চাইলে তা অন্যান্য নফল নামাজের মতোই দুই রাকাত করে আদায় করতে হবে। প্রতি রাকাতে সূরা ফাতেহার পর কোরআনের যে কোনো সূরা পড়া যাবে। এরপর যথানিয়মে রুকু-সিজদা ও অন্যান্য রুকন আদায় করে নামাজ শেষ করতে হবে।

দুই বা চার রাকাত নামাজের পর কিছু সময় দোয়া-দরুদ, তাসবি-তাহলিল, জিকির ও কোরআন তেলাওয়াত করা যেতে পারে। এরপর আবার নামাজে দাঁড়ানো, নামাজ শেষে তাওবা-ইস্তেগফার করা, দীনি আলোচনা শোনা বা কোরআন-হাদিস অধ্যয়ন করাও উত্তম।

রাকাতের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। ব্যক্তি তার সামর্থ্য অনুযায়ী যত রাকাত পারে আদায় করতে পারবে। কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা কাউকে তার সাধ্যের বাইরে কোনো দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না।

আলেমরা সতর্ক করে বলেন, শবে বরাতে ইবাদতের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি কিংবা অবহেলা—দুটিই পরিহার করা জরুরি। নফল ইবাদতের জন্য নিজে থেকে নির্দিষ্ট নিয়ম তৈরি করা ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে সব যুগের আলেমদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগে শবে বরাতে কোনো নির্দিষ্ট নামাজের প্রচলন ছিল না। তবে যেহেতু রাতে দীর্ঘ সময় পাওয়া যায়, তাই ফজিলতপূর্ণ নফল নামাজ হিসেবে সালাতুত তাসবিহ আদায় করা যেতে পারে। হাদিসে জীবনে অন্তত একবার এই নামাজ আদায়ের তাগিদ এসেছে।

এসএইচ 


 

Wordbridge School
Link copied!