• ঢাকা
  • বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

চার্জে চলবে এবারের বিশ্বকাপ বল ‘ট্রাইওন্ডা’


সোনালী ডেস্ক জুন ১০, ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
চার্জে চলবে এবারের বিশ্বকাপ বল ‘ট্রাইওন্ডা’

ছবি: সংগৃহীত

ছোটবেলায় বিকেলে খেলার আগে দোকানে গিয়ে চামড়ার ফুটবলে পাম্পার দিয়ে হাওয়া দেওয়ার স্মৃতি অনেকেরই আছে। সময়ের আবর্তে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় পৃথিবী এখন যেখানে এসে পৌঁছেছে, তাতে এখন আর শুধু হাওয়া নয়, রীতিমতো চার্জ দেওয়া বল দিয়েও ফুটবল খেলা সম্ভব। শুনতে রূপকথা মনে হলেও এটাই এখন মাঠের বাস্তব সত্য। হাওয়ার পাশাপাশি এবার চার্জযুক্ত বলের ভেতরে লুকানো প্রযুক্তির মেলবন্ধনেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ। সেই বলেই লাথি দিয়ে জাদুকরী সব মুহূর্তের জন্ম দেবেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোরা। ফলে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বল ‘ট্রাইওন্ডা’।

স্প্যানিশ এই শব্দের বাংলা অর্থ ‘তিন ঢেউ’। মূলত ট্রাই অর্থ তিন আর ওন্ডা শব্দের মানে ঢেউ বা তরঙ্গ। বিশ্বকাপের তিন যৌথ আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাকে সম্মান জানিয়েই বলের এই নামকরণ করা হয়েছে। বলের বাহ্যিক নকশায়ও রাখা হয়েছে এই তিন দেশের সংস্কৃতির ছাপ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতীকী নীল রং, কানাডার লাল এবং মেক্সিকোর সবুজ রঙের চমৎকার সংমিশ্রণ করা হয়েছে বলটিতে। শুধু রং নয়, বলের গায়ে ছোঁয়া রয়েছে কানাডার ম্যাপল পাতা, মেক্সিকোর ঈগল এবং যুক্তরাষ্ট্রের তারকা প্রতীকের। আর পুরো নকশায় ব্যবহৃত সোনালি রং প্রতি মুহূর্তে মনে করিয়ে দেবে প্রতিটি দলের পরম আরাধ্য সেই সোনালি বিশ্বকাপ ট্রফিকে।

সাধারণ চামড়া আর সুতো দিয়ে বানানো গোলাকৃতির ফুটবল মনে হলেও এর ভেতরটায় যেন আস্ত এক কম্পিউটার পুরে দিয়েছে ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। খেলাধুলায় শতভাগ স্বচ্ছতা আনতেই বলের পেটে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তি। বলের ঠিক কেন্দ্রে বসানো হয়েছে ১৪ গ্রামের এক বিশেষ মোশনের সেন্সর চিপ। ৫০০ হার্টজের এই সেন্সরটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার নিখুঁত তথ্য বা ডেটা রেকর্ড করতে সক্ষম। ফলে মাঠে ফুটবলারদের বুটের আলতো স্পর্শও রিয়েল টাইমে চলে যাবে রেফারির মনিটরে। অফসাইড, গোললাইন টেকনোলজি কিংবা বিতর্কিত হ্যান্ডবলের মতো ঘটনাগুলো নিখুঁতভাবে ধরতে সাহায্য করবে এই প্রযুক্তি। বলের ভেতরে থাকা এই ডিভাইসটি সচল রাখতে একবার পুরো চার্জ দিলে টানা ছয় ঘণ্টা অনায়াসে খেলা যাবে, যা একটি ম্যাচের জন্য প্রয়োজনের চেয়েও অনেক বেশি।

অ্যাডিডাসের মহাব্যবস্থাপক স্যাম হ্যান্ডি এই বলের বিশেষত্ব তুলে ধরতে গিয়ে জানিয়েছেন, প্রতিটি ছোট জিনিসেরই মাঠে এক একটি বড় প্রভাব আছে। বলের খোদাই করা অনন্য নকশা, স্তরযুক্ত গ্রাফিকস এবং উজ্জ্বল রং একে আগের সব বলের চেয়ে আলাদা করেছে। এখন পর্যন্ত এটিই তাদের তৈরি করা সবচেয়ে সুন্দর ও আকর্ষণীয় ফিফা বিশ্বকাপের বল।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই নিয়ে টানা ১৫ বার অফিশিয়াল বল তৈরি করার গৌরব অর্জন করল অ্যাডিডাস। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সঙ্গে তাদের এই ঐতিহাসিক পথচলা শুরু হয়েছিল ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের বিখ্যাত 'টেলস্টার' বল দিয়ে। এর পর থেকে দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী ধরে প্রতিটি বিশ্বকাপেই বলের আকৃতি ও প্রযুক্তিতে নতুনত্বের ছোঁয়া দিয়ে আসছে এই জার্মান স্পোর্টস ব্র্যান্ড। এবার ‘ট্রাইওন্ডা’র হাত ধরে ফুটবল বিশ্বকাপ প্রবেশ করতে যাচ্ছে এক নতুন রোমাঞ্চকর ও ডিজিটাল যুগে।

এসএইচ 

Link copied!